1]

৪৯৯ বে

প্রকাশকের নিবেদন

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় আপন সৃজনপ্রাতিভায় স্বতন্ত্র এবং ভাস্বর। মাত্র পণ্চাশ বংসরের জীবদ্দশার মধ্যে বাঙলা সাঁহত্য-ভাণ্ডারে দ্বিজেন্দ্রলালের সাহত্যকীর্ত অপ্রতুলও নহে।

্জেন্দ্লাল একাধারে কাব, নাট্যকার, সমালোচক এবং সাহত্যিক। স্বদেশ ভাব- ধারায় তানি উদ্বুদ্ধ। "দ্বজেন্দ্র জল্মশতবর্ষে (১৯৫৫) দ্বজেন্দ্র-চর্চা ব্যাপক প্রসার লাভ কারয়াছে এবং ভরঙ্সা করি, ইহা উত্তরোত্তর বাঁদ্ধলাভ কাঁরবে। 'দ্বিজেন্দ্রলালের ইংরৌজ কাঁবতার বই 1,705 ০0 170 ব্যতীত আরো বাত্শাট পুস্তক প্রকাশিত হইয়াছল। দ্িজেন্দ্র-চ্চার সহায়তাকল্পে আমরা তাহার সমগ্র রচনাবলী দুই খণ্ডে প্রকাশ করিবার ব্যবস্থা কারয়াছ। এতদব্যতীত, সামীয়ক পর্র-পান্রকায় তাঁহার যে রচনাবলা বাঁক্ষপ্ত ছল, তাহাও যতদূর সম্ভব সংগ্রহ কারয়া দুইটি খন্ডেই সাল্নীবম্ট করা হইতেছে। 'দ্বিজেন্দ্ রচনাবলীর 'দ্বতীয় খণ্ডটি যথাসম্ভব সত্বর প্রকাশিত হইবে।

রচনাবলীর খণ্ড দুইটি সম্পাদনার জন্য এবং দ্বিজেন্দ্ুলালের জীবনী সাহত্য- সাধনা আলোচনার জন্য কাঁলকাতা 'বশ্বাবদ্যালয়ের বাঙলা সাহত্যের অধ্যাপক ডক্টর রথীন্দ্রনাথ রায়ের নিকট আমরা কৃতজ্ঞ। 'দ্বজেন্দ্রলালের প্রাতাচন্রাট বঙ্গীয়-সাহত্য- পাঁরষদের সৌজন্যে প্রাপ্ত এবং শ্রীশোরান্দ্রকুমার ঘোষ মহাশয়ের সৌজন্যে দ্বিজেন্দ্রলালের হস্তালাপটি পাওয়া গিয়াছে।

পাঠক-সাধারণের 'নকট আমাদের এই প্রচেষ্টা সমাদর লাভ কাঁরলে শ্রম সার্থক জ্ঞান কারব।

২রা জানুয়ারি, ১৯৫২

ছ্বিতীয় মদ্রণ

দ্বজেন্দ্র রচনাবলীর প্রথম খণ্ড অল্পকালের মধ্যে নিঃশোষত হওয়ায় পাঠক-সাধারণের প্রাত আমরা আন্তাঁরক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কাঁর।

ড্র রথীন্দ্রনাথ রায় 'সাহিত্য-সাধনা অংশে কিছু নৃতন আলোচনা সংযোজন করিয়াছেন। .

খরা মে, ১৯৫৫

ভুমিক

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাব দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এক 'বাশম্ট স্থানের অধিকারাঁ। সংগীতে-কাব্যে-নাটকে-প্রহসনে তিনি বাংলা সাহত্যকে সমদ্ধ করেছেন। বর্তমান বংসরে বাংলাদেশে বাংলাদেশের বাইরে বহয্স্থানে তাঁর জল্মশতবর্ষপূর্তর জয়ন্তী উৎসব পালিত হচ্ছে। 'দ্বিজেন্দ্ুলালের সাহিত্যিক প্রাতভা পূনার্বচারের সুযোগ উপাস্থিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ এক সময় 'দ্বজেন্দ্রলালের 'মন্দ্র কাব্যের সমালোচনায় বলোহলেন : “ইহা নৃতনতায় ঝলমল করিতেছে এবং এই কাব্যে যে ক্ষমতা প্রকাশ পাইয়াছে, তাহা অবলণলা- ৬৮টি রবীন্দ্রনাথের এই মন্তব্যই 'দ্বিজেন্দরপ্রীতিভার স্বর্পলক্ষণকে উদ্ভাঁসত করে 'সাহত্য সংসদ' দ্বজেন্দ্রলালের সমগ্র রচনাকে দু'খণ্ডে প্রকাশ করার করেছেন। দুটি খণ্ডেই 'তনাট করে বিভাগ থাকবে : (১) নাটক প্রহসন, (২) কাঁবতা গান এবং (৩) গদ্যরচনা। যতদূর সম্ভব এখানে কালগত পারম্পর্য রক্ষা করা হয়েছে বানান বিষয়ে যথাসম্ভব মূলের বানানই অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথম খণ্ডের ভূমিকা জীবনকথা এই খণ্ডের অন্তভূন্তি রচনাবলীর আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় খণ্ডের ভূমিকায় খন্ডের অন্তভূক্তি রচনাবলীর আলোচনা থাকবে। তাছাড়া উত্ত ভূমিকায় দ্বিজেন্দ্রলালের ছন্দ কাব্যরশীতি, দ্বিজেন্দ্রসংগীত এবং 'দ্বিজেন্দ্র- লাল বাংলা রঙ্গমণ্ড সম্পর্কে কিছ আলোচনা করার ইচ্ছা আছে।

মৃত্যুর পর তাঁর অন্তরক্গ বন্ধ গুগ্রাহী কা দেবকুমার রায়চৌধুরা তাঁর একখান তথ্যসমদ্ধ পূর্ণাঙ্গ জীবনী লেখেন। আর একখান সধাক্ষপ্ত জীবনধ লেখেন নবকৃষ্ণ ঘোষ। উপাদান সম্পর্কে দ্যাট গ্রন্থই মূল্যবান। এই দুঁট গ্রল্থ থেকে বহু উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমান লেখকের পদ্বজেন্দ্লাল: কাব নাট্যকার ্ন্থটিও ভূমিকা রচনায় সাহায্য করেছে। ছাড়া বাভন্ন পর-পত্রিকা থেকে অনেক প্রবন্ধের সাহাযা গ্রহণ করা হয়েছে।

এই গ্রল্থ সম্পাদনায় উৎসাহত করেছেন আমার পূজনীয় শিক্ষাগুরু কাঁলকাতা রামতন লাহড়শ অধ্যাপক ডক্টর শশিভৃষণ দাশগ্‌স্ত মহোদয়। গ্রল্থাটর পারিরাগনা জাগার যার রানার দিপাদি রছেন রা লামার রগ জানাই দ্বজেন্দ্লালের সমগ্র রচনা সংগ্রহ করার পূনর্মদদ্রণের প্রয়োজন ছিল। কারণ তাঁর অনেক রচনাই এখন দশ্প্রাপ্য। সাঁহত্য সংসদের পক্ষে শ্রীষ্যন্ত মহেন্দ্রনাথ দত্ত 'দ্বিজেন্দ্র রচনাবলী প্রকাশের সবীবধ সুযোগ-সাবিধা দিয়ে আমাকে বিশেষভাবে উৎসাহ সাহায্য দান করেছেন। বর্তমান সংস্করণকে সমম্ঠু রূপদানের জন্য তাঁর এই আন্তারকতাকে কতজ্ঞ- চিত্তে স্মরণ কার। সাহত্য সংসদের শ্রীষূস্ত গোলোকেন্দ; ঘোষের সহানুভূতি লি ১৯৬০ কপ ৬৯ শ্রীমান সনৎকুমার মিত্রের সাহায্য ব্তখত এই দুরূহ কার্য সম্পাদন করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। শ্রীযুক্ত গুপ্ত তথ্য উপদেশ 'দয়ে সাহায্য করেছেন। তাঁদের প্রত্যেককে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই।

৮ই িসেম্বর, ১৯৫৫ বাংলা সাহতা 'বভাগ রখশচ্দুনাথ রায় ফাঁলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

পাষাণী

তন্লাবাই

রাণা প্রতাপপাসংহ দূর্গাদাস সাজাহান

প্রহসন

সমাজাবিদ্রাট কল্ক অবতার বিরহ প্রায়শ্চিত্ত

কাঁবতা গান

আর্যধযগাথা (১ম) আর্ধযগাথা (২য়) আষাটে হাঁসর গান গরদয-রচলা একঘরে রঃ কাঁলদাস ভবভাতি :... ..

কাঁড়

১৩৯ ৪১-- ৭৯০ ৯১--৯৬০

১৬১--২৩৪ ২৩৫--২৯৩ ২৯৫--৩৫০

৩৫১--৩৯৩ ৩৯৫--৪৩২ ৪৩৩--৪৬১

৪৬৩--৪৮৭ ৪৮৯--&২৬ ৫২৭--৫৬৬ ৫৬৭--৬০১

৬০৩--৬৮১

'৬১৩--৬৮১

৬৯১--৭১২

দশ

প্রমুখ উনাবংশ শতাব্দীর চিন্তানায়কদের সঙ্গে তাঁর বন্ধৃত্ব ছিল। কাঁর্তিকেয়চন্দ্রের বাসভবনে তখনকার কালের জ্ঞান গুণীরা সমবেত হতেন দীনবন্ধু মিত্র তাঁর 'সুরধূনী'কাব্যে জলাঙ্গণী নদীর মুখ দিয়ে বাঁলয়েছেন :

কাতিকেয়চন্দ্র রায় অমাত্য প্রধান,

সুন্দর, সুশীল, শান্ত, বদান্য, বিদ্বান;

সুলালত স্বরে গীত 'কবা গান তানি, রে

ইচ্ছা করে শুন হয়ে উজানবাহনী।

কার্তকেয়চন্দ্র বাংলা, ফারাঁস ইংরোৌজ সাহিত্যে অভিজ্ঞ ছিলেন। সংস্কৃত পক্ষতীশ

বংশাবলশী চারত'-এর আদর্শে পক্ষতীশ বংশাবলী চাঁরত' নামে তান কৃষ্ণনগর রাজবংশের একাঁট প্রামাণিক ইতিহাস লিখেছিলেন। তাঁর 'আত্মজনবনচারত' বাংলা সাহত্যের আত্মচারত রচনার আঁদপবেরি একাঁট উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ এই দুটি গ্রন্থেই তৎকালীন বাংলার সামাঁজক হীতহাসের প্রচুর উপাদান পাওয়া যায়। শক্ষতীশ বংশাবলশ চরিত' প্রসঙ্চে হন্দু পোট্রয়ট' যথার্থই িলখোছলেন :

৬/10) 075 £1911985 20210010106 13901008. 720507019. 101 1৬1009, 005

11515 01 0101 09% 117৮6 1001 700 00 0015 [1100 [01006000611 70021001017 11) 0015

011500100.. . . ৬/০ 1091] 13900. 771010602 0217010018 [২০৮ 925 2. [91010551 10 0015

11105101010 10010 10065155010 0610. 1015 610 21710191176 00 0170 0081 106 1795

11206 076 1950 056 01 006 000101701010155 ড/10 1015 10108 00116001017 10) 0106

০0 076 17050 21701017020 01501050015150 191711165 01 13010291 2001060. 705

01010010195 01 076 1২809175০01 ৭৭০০৪ 0017 20. 11001091900 09000100190 09

076 10150017% ০0£ 9617891 9100 00 50072 19710100191 70211905 ০% 0061£ 10150019

06/ 010৬ 20000 01 1121). (17200 7/7709/, 0০/0৮527, 4, 1875)

১৮২৫ সালে তিনি গীতমঞ্জরী' নামক একখানি স্বরচিত গণীতিসংগ্রহও প্রকাশ করেন। সম্পর্কে তিনি তরি 'আত্মজীবনচারত'-এ বলেছেন :

প্রথমে আম কেবল ভালবাসাব গীত রচনা করিয়াছিলাম, পরে আত্মীয় [বিশেষের প্রীত্যর্থ রামচরিত, কুষ্ণলীলা প্রীত পৌরাণক প্রসগ্গ অবলম্বন কাঁরয়া মাতৃম্নেহ, অপত্যস্নেহ, দাম্পত্য- প্রণয়, ভ্রাতৃস্নেহ ইত্যাঁদ কয়েক বিষয়ে কাঁতপয় গশত রচনা করি। তাহার পর খধতু-বিশেষে গাইবার জন্য বসন্ত, বর্ষা, হোরর শুভকর্মোপলক্ষে গাইবার 'না্মাত্ত বিবাহ, পুন্রলাভ, জন্ম- তিথি বিষয়ের কতকগুলি গণত 'হন্দশ-গানের আদর্শে প্রস্তুত কাঁর। আত্মজশবন-চাত, নূতন সং ৫১৩7 )), পৃঃ ১৮৮-৮৯)

চারঘ্রের আভিজাত্য, তেজাস্বিতা, বদ্যানুরাগ, সংগশতানরাগ প্রভাতি গুণ দ্বিজেন্দ্রলাল উত্তরাধিকারসূত্রেই পেয়োছলেন। ধপতার চাঁরন্রের আদর্শেই 'দ্বজেন্দ্রলাল দগাদাস চারন্রাট রচনা করেন। '“দুর্গাদাস' নাটকের উৎসর্গপন্ে তান লিখেছিলেন : “যাঁহার দেবচারন্র সম্মুখে রাখিয়া আমি এই দুর্গাদাস-চাঁরত্র অগ্কন করিয়াছ, সেই চিরআরাধ্য 'পতদেব কার্তকেয়চন্দ্ রায় দেবশর্মার চরণকমলে এই ভান্ত-পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করিলাম ।”

দ্বজেন্দ্রলালের মাতামহকুল শান্তিপুরের অদ্বৈতাচার্ধের বংশ। তাঁর মায়ের নাম ছিল প্রস্বময়ী দেবী। তান ছিলেন অদ্বৈত প্রভুর অধস্তন নবম বা দশম পূরুষের কন্যা স্বামী- উরি জাভিভাভা উর রে তে ভি আদিল লা জারির করেছেন। দ্বিজেন্দ্লালের বিলাত অবস্থান কালেই তাঁর পিতৃ-মাতৃ-বিয়োগ ঘটে! -. ৰালাকাল ছাত্র-জশবন £ 'দ্বিজেন্দ্ূলালের শৈশব বাল্যকাল কৃষ্ণনগরেই আতবাহত হয়। শৈশবে বাল্যকালে তান একাধিকবার মৃত্যুর হাত থেকে অব্যাহাতি পেয়োছলেন। একবার শৈশবে ধান্রীর কোল থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মকরূপে আহত হন, আর একবার ঢেশকর উপর

এগার

থেকে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে ফেলেন। বাল্যকালে দুরারোগ্য ম্যালোরিয়া জহরে আক্লান্ত হয়ে বায় পাঁরবর্তনের জন্য মাতা কনিষ্ঠতা ভাঁগননীর সঙ্গে মাতুলালয় 'গয়োছলেন। ডান্তারের। তাঁর জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। আশ্চযভাবে সেবার 'তাঁন রক্ষা পান। স্বরাঁচিত জশীবনচারতের মধ্যে তিনি এই ঘটনার উল্লেখ করেছেন।

পারবারিক পাঁরবেশ দ্িবজেন্দ্র-প্রাতিভা ঠবকাশের সহায়ক হয়োছল। কাঁ্তিকেয়চন্দ্রের সাত পুলের মধ্যে দ্বিজেন্দ্ুলাল ছিলেন সবকনিম্ঠ। "দ্বজেন্দ্রলালের অগ্রজেরা সকলেই ছিলেন কৃতাঁবদ্য। তাঁর তৃতীয় অগ্রজ জ্ঞানেন্দ্রলাল রায় এমৃ-এ, বি-এল এবং ষণ্ঠ অগ্রজ হরেন্দ্রলাল রায় বি-এল, সাঁহাত্যিক হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন। জ্ঞানেন্দ্লাল এক সময় 'বঙ্গবাসা” পান্রকার সম্পাদকীয় িবভাগে ছিলেন, তাঁর সম্পাঁদত “পতাকা' পাঁত্রকাও এক সময় জনাপ্রয়তা অজ্ন করোছিল। এই সাপ্তাঁহক পান্রকাতেই "দ্বজেল্দ্ুলালের শবলাতের পর্ন" ধারাবাহকভাবে প্রকাঁশত হয়োছল। জ্ঞানেন্দ্ুলাল হরেন্দ্রলাল এক সময়ে “নবপ্রভা” নামক একটি পাত্রকাণও সম্পাদনা করেন। দ্বিজেন্দ্লালের 'বিড়দা” রাজেন্দ্রলাল রায় মেহেরপুর আদালতের পেশকার 1ছলেন। ইংরোজ সাহত্যে তাঁর ছিল অসামান্য আঁধকার। দিজেন্দলাল লখেছেন :

তানি এই আত অশ্পকালের মধ্যে আমাকে এমাঁন আশ্চর্য কৌশলে শবাচন্র নৈপুণ্য সহকারে ইংরাজি ভাষায় সূদক্ষ আঁভজ্ঞ কারযা তুলিলেন যে, সেই গোড়ার দঢ়াভাত্তর উপর প্রাতচ্ঠত থাঁকয়াই আম আত অনাযাসে, ানতান্ত অসুস্থ শবীর লইয়া এবং তেমন মনো- যোগের সাহত অধায়ন কাঁরতে পারিয়াও, পরে এমৃএ পরীক্ষায় তবু যা হোক একটু সম্মান

লাভ কাঁরতে সমর্থ হইয়াছলাম। (ম্বিজেন্দ্ুলাল : দেবকুমার রায়চৌধ্রী, পৃ ৭০)

রর রানু রা গ্তাগ্ন ওপর বলাবাহূল্য, পারিবারক জীবনের এই ধিদণ্ধ পাঁরবেশ কৃতাবদ্য অগ্রজদের উৎসাহবাকা সস্নেহ আনুক্ল্য দ্বজেন্দ্রলালের মনোজীবন রচনায় সহায়ক হয়োছল।

সেকালে কৃষ্ণনগরে একটি সমদ্ধ সাংস্কীতিক পাঁরবেশ ছিল এই পাঁরবেশের অন্যতম কেন্দ্র ছিলেন দ্বিজেন্দ্রলালের 'পতা দেওয়ান কার্তিকেয়চন্দ্র রায়। কার্তিকেয়চন্দ্র তাঁর আত্মজীবনীর মধ্যে এই পাঁরবেশের বর্ণনা করেছেন। মার্গসংগীতের অনূকূল পাঁরবেশের মধ্যে 'দ্বিজেন্দ্রলালের মনোজশীবন গড়ে উঠেছিল। সেকালের কৃষ্ণনগরের এই সাংগশীতিক পাঁরবেশের বর্ণনা করতে গিয়ে প্রমথ চৌধুরী বলেছেন : “..দ্িবজেন্দ্রলালের পিতা কার্তক দেওয়ানের মুখে অনেক গান শূনেছি। তান ছিলেন আত সৃকণ্ঠ সংগীত-বদ্যায় সাঁশাক্ষত। তান বোধ হয় বাংলা হন্দী দু-ভাষায়ই গান গাইতেন, কিন্তু কি যে গাইতেন আমার মনে নেই।

'দ্বিজেন্দ্লালও গাইয়ে বলে পাঁরচিত ছিলেন। তান সভা-সাঁমাতিতে গান গাইতেন ছোকরা বয়সেই। বোধ হয় কণ্ঠসংগীত তাঁর ?পতার কাছে শিক্ষা করোছলেন। আরও দু-চারজনের মুখে অতি মিষ্ট গান শুনেছি, তাঁদের নামও মনে আছে।"- আত্মকথা, জ্যৈষ্ঠ, ১৩৫৩ : প্রমথ চোধ্মরশ, পু. ৩০)

দ্বিজেন্দ্রলাল মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ১৮৭৮ খ্রীষ্টাব্দে তনি কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দশ টাকার বাঁন্ত লাভ করেন। ম্যালেরিয়া রোগে জীর্ণশীর্ণ হওয়া সত্তেও তাঁর এই কাঁতিত্ব 'নঃসন্দেহে প্রশংসনীয় 'দ্বিজেন্দ্লালের ছাত্রজীবন সম্পর্কে তাঁর জশীবনশকার দেবকূমার রায়চোৌধুরী বলেছেন :

তংকালে 'দ্িবজেন্দ্রলালের ততঈয অগ্রজ শ্রীয্ত্র জ্বানেন্দ্রলাল রায় মহাশয় এঁ বিদ্যালয়ে প্রথম

শ্রেণীতে ইংরাঁজ সাহতোর শিক্ষক 'ছিলেন। সে বৎসর উন্ত বিদ্যালয়ের প্রবোঁশকা পরপক্ষার্থ-*

গণের 'টেস্ট” (1550) বা বাছাই" পরীক্ষায় খ্যাত অধ্যাপক রো সাহেব ইংরাজ কাহত্যের

পরীক্ষক 'নযূন্ত হন। যথাকালে পবীক্ষার্থগণের কাগজগুঁলে দেখা শেষ হইলে, 'বো সাহেব

জ্ঞানেন্দ্রবাবূকে বললেন _এ ক্লাশে দ্বিজেন্দ্রলাল কোন ছান্রাটর নাম, আমাকে একবার দেখাইয়া

দিন।” জ্ঞানেন্্রবাবু তাঁহার ভ্রাতাকে দেখাইয়া দিলে দলে, রো সাহেব দ্বিজেন্দ্লালের সমক্ষেই

বার

বাললেন,_“আম অত্যন্ত আহ্াদের সঙ্গে জানাইতোছি যে, 'দ্বজেন্দ্ুলাল এবার যের্প পরণক্ষা দিয়াছেন, তাহা যে-কোনও ইংরাজ ছাত্রের পক্ষেও পরমগৌরবের হইত। -_ (শ্বিজেন্দ্রলাল, পৃ পৃ ৬৯)

ছাত্রজীবনে ?তনি প্রায়ই ম্যালেরিয়ায় ভূগতেন, তাই ীব-এ পরাক্ষা পর্য্ত তান আশানুরূপ কাতিত্ব দেখাতে পরেন 'ন। কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে এফএ হুগলী কলেজ থেকে তান 'বি-এ পাশ করেন। ১৮৮৪ খ্রাস্টাব্দে প্রোসডেন্সী কলেজ থেকে ইংরোজতে দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রথম স্থান আধকার করে এমৃ-এ পরাক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এমৃ-এ পরাঁক্ষার বছর 'তাঁন আবার ম্যালোরয়ায় পু ভি উড সার আশুতোষ চৌধুরীর জ্যেন্তা ভাঁগনণ প্রসন্নময়শ দেবী সঙ্গে গিয়োছলেন। সেখানে মনীষী রাজনারায়ণ বসুর সপ্পো 58817768578 এই সময়ে পূজ্যপাদ রাজনারায়ণবাবূর সঙ্গে তাহার প্রথম আলাপ।...আমই সেখানে ম্বিজুকে প্রথম আলাপ করাইয়া দিই॥ তাহার পর 'তাঁন সতত বিজুর কাছে আসতেন, গান-গল্প-আলোচনায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়া যাইত স্নানাহারের কথা মনে থাঁকিত না।...দ্বিজু 'প্রয়দর্শন গোৌরবর্ণ ছিল, গানে সুকণ্ঠ এবং সেই গান আবার 'াীজেই রচনা করিত। কাজেই রাজনারায়ণবাবু তাহার 'নজগুণে তাহাকে বড়ই স্নেহ কারতেন। আমরা তখন দৃই ভাই-বোনে 'মলিয়া একসঙ্গে বাঁসয়া ইংরাঁজ কাঁবতা পাঁড়তাম, আর শেলস, বায়রন, কীটস হইতে অনুবাদ

1 (প্বোন্ত গ্রল্থ, প্‌ ৭৩-৭৪) পাঠ্যাবস্থাতেই দ্বিজেন্দ্রলালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'আর্ধগাথা” [প্রথম ভাগ] প্রকাশিত হয় (১৮৮২)।

বিলাত-প্রবাস £ এমৃ-এ পাশ করার পর দ্বিজেন্দ্রলাল বায়ু পাঁরবর্তনের জন্য ছাপরা জেলার রেভেলগঞ্জ মুখার্জ সেমিনারীতে শিক্ষকের কাজ গ্রহণ করেন। তাঁর চতুর্থ অগ্রজ নরেন্দ্রলাল রায় সেখানে হেড্মাস্টারের কাজ করতেন। দু'মাস পরে গভন“মেন্ট তাঁকে জানালেন যে, তান যাঁদ কাঁষাবদ্যা শক্ষার জন্য বলাত যেতে ইচ্ছুক হন তো, সরকার তাঁকে নিজ ব্যয়ে বিলাত পাঠাতে রাজ আছেন। দ্বিজেন্দ্রলাল পিতা-মাতার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বিলাত-যান্তা করেন (এাপ্রল, ১৮৮৪)। বিলাত-প্রবাসকালে তান পবলাতের পন্ন' জ্ঞানেম্দ্রলাল হরেন্দ্রলাল-সম্পাঁদত সাপ্তাহক “পতাকা” পন্রিকায় ধারাবাহকভাবে প্রকাশ করেন। এই পন্নাবলীতে 'দ্বিজেন্দ্রলালের মননশীলতা, বশ্লেষণশাস্ত, পর্যবেক্ষণদক্ষতা স্বাজাত্যানুভূঁতর পাঁরচয় পাওয়া যায়। ্বিজেন্দ্রলালের বন্ধৃভাগ্য ছিল। 'িলাত-প্রবাসের জশবনেও তার ব্যাতক্রম হয়ান। গবচারপাত সার আশুতোষ চৌধুরী, ব্যারস্টার ব্যোমকেশ চক্রবতণ ব্যারস্টার সতোন্দ্রপ্রসম্ম সিংহ পেরবতর্ঁকালে লর্ড সিংহ), জেলা-জজ লোকেন্দ্রনাথ পালিত, পরব্তাঁ কালের বঙ্গবাস* কলেজের অধ্যক্ষ গারশচন্দ্র বস প্রমূখ গুণণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বজেন্দ্রলালের ঘাঁনচ্ঠতা হয়। দ্বজেন্দ্ূলালের বিলাত-প্রবাসকালের দুটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য প্রথমাঁট, গবালাতি সংগণত গশক্ষা, 'দ্বিতীয়াট, ইংরোজ কাব্যের প্রকাশ সাঁসটার কলেজে দ্বিজেন্দ্রলালের সহাধ্যায়খ বঙ্গবাসী কলেজের ভূতপূর্ব অধ্যক্ষ গিরিশচন্দ্র বসু মহাশয় বলেছেন : তারপর সেখানে অশ্পাঁদনের মধোই জানিতে পারিলাম,_দ্বিজ একজন 12101)10 (কোরক) কাঁব- ইতিপূর্বে “আযগাথা” বিয়া স্বদেশের কাঁবজগতে প্রবেশ লাভ কাঁরযা আসিয়াছেন। গধতবাদোও যে তাঁহার বিশেষ অনুরাগ তাহাও শগপ্রই প্রকাশ পাইল। একদিন কথায় জুধায গাপচ্ছলে তানি বাঁললেন- যাহার কাছে তানি গান শিখতে আরম্ভ প্লে রমণশীট তাঁহার নাক সুরের সংস্কার ভরাট গলার চচ্ঠা করার জন্য তাঁহাকে বহুবার [বিশেষ অনুরোধ করিয়াছেন সেই অনুরোধের পরিণামে, পরে যে কি ফল ফাঁলিয়াছিল, আজ বঞ্গবাসশ কাহারও অজ্ঞাত নাই। (পেরোন্ত গ্রন্থ, প্‌ ১৬৮)

তের

দ্বজেন্দ্ুলালের বলাত-প্রবাসের আর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল "11105 [গণ নামক ইংরোঁজ কাব্যের প্রকাশ এই কাব্য সম্পর্কে দ্বিজেন্দ্রলাল বলেছেন :

[বলাতে শিয়া ইংরাজিতে কাঁবতা 'লাখতে আরম্ভ কার এবং সেই কাঁবর্তীগাল একনিত করিয়া স্যার আনল্ডকে উৎসর্গ কারবার অনুমতি চাঁহ এবং তৎংসঙ্চে কাঁবতাগৃঁলর পান্ডঁলাপ তান কাঁবতা প্রকাশ সম্বন্ধে আমাকে উৎসাহত কাঁরয়া পনর লেখেন

* সে কাঁবতাগাঁল তাঁহাকে উৎসর্গ কারবার অনূমাতি সাগ্রহে দান করেন। তখন সেই কবিতা- গুঁলকে 1.1105 100 আখ্যা দিয়া প্রকাশ কাঁর। (আমার নাট্যজশীৰনের আরম্ভ : নাট্যমান্দর, শ্রাবণ ১৩১৭)

দবিলাত প্রবাসকালে তান সেখানকার বিখ্যাত রঙ্গালয়ে প্রায়ই আভনয় দর্শন করতেন। সেখানকার প্রীসদ্ধ অভিনেতা অভিনেত্রীদের আভনয় দেখে, রঙ্গালয় আঁভনয় সম্পর্কে তাঁর আভজ্ঞতা হয়। উত্তরকালে এই সমস্ত আঁভজ্ঞতা তাঁর কাজে লেগোছিল।

কর্মজশবন সামাঁজক উৎপীড়ন £ দীর্ঘ 'তিনবছর পর দবজেন্দ্রলাল স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন। বিদেশে যাত্রার প্রাকালে পিতৃদেব তাঁকে সামাঁজক অস্বীবধার কথা বলোছলেন। প্রত্যাবর্তনের পর বাইরে সন্তোষ প্রকাশ করলেও কাত সামাঁজক অনচ্ঠানাদতে স্বজনবন্দ সতর্কতার সঙ্গে তাঁকে এাঁড়য়ে চলতে লাগলেন এতে স্বাভাবিকভাবেই তান আহত হলেন। কেউ কেউ নাক তাঁকে প্রায়শ্চিত্ত করতেও পরামর্শ 'দিয়েছিলেন। বলাবাহুল্য দ্বিজেন্দ্লা্স ঘণাভরে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করোঁছলেন। সামাজিক উৎপণড়ন নির্মম আচরণ দ্বিজেন্দ্রলালের সংবেদনশীল তরুণ মনে তব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্ট করোছল। সেই প্রাতাক্রয়ার বাঁহুজবালময় রূপ 'একঘরে' পুস্তিকায় (১৮৮৯) আত্মপ্রকাশ করেছে। তৎকালশন “সমাজ-সংরক্ষক'দের প্রাত অব্যর্থ- লক্ষ্য 'বিষবাণ বাত হলেও খণ্ডকালের সামাজক উত্তেজনার মধ্যেই এর আবেদন সশমাবদ্ধ। সামায়ক উত্তেজনায় ক্রোধান্ধ হয়ে তান ভাষা ভাবগত সংযম পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছেন। দ্বজেন্দ্রলাল নিজেই বলেছেন : “ইহার ভাষা ঠাট্রার ভাষা নহে ইহার ভাষা অন্যায়ক্ষুব্ধ তরবারর বিদ্রোহী ঝনংকার, ইহার ভাষা পদদাঁলিত ভুজঙগমের ক্রম্ধদংশন, ইহার ভাষা আশ্নি- দাহের জবালা।”- (একঘরে)

দ্বজেন্দ্রলাল ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে সরকারশ কার্যে যোগদান করেন (২৫ ডিসেম্বর, ১৮৮ড)। ছোটলাটের সঙ্গে দেখা করে স্বাধীনচেতা দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁর সঙ্গে যেভাবে কথাবার্তা বলোছলেন, তাতে সাহেব খুশী হতে পারেন নি। ফলে ভাল চাকার তাঁর অদ্টে জোটে নি। জরিপ-জমাবন্দীর কাজ শেখার জন্য প্রায় তিনমাস তান মধ্যপ্রদেশের রায়পুরে ছিলেন। চাকার- জীবনে উপরওয়ালাদের সঙ্গে একাধিকবার তাঁকে প্রত্যক্ষ সংঘর্ষে উপাস্থত হতে হয়। একবার বর্ধমান-রাজের সূজামাটা পরগণায় তাঁকে সেটেলমেন্ট অফিসার করে পাঠানো হয়। উত্ত পরগণার প্রজারা সরকারী লোকদের হাতে নানাভাবে উৎপশীড়ত হাচ্ছল। 'দিবজেন্দ্লাল অত্যাচাঁরত প্রজাদের প্রাতি সহানুভূতিশীল হয়ে এর প্রাতকারের চেম্টা করেন। বলাবাহুল্য বর্ধমান মহারাজার কর্মচারী ছোটলাট সাহেবের কাছে 'দ্বজেন্দ্রলালের বিরুদ্ধে আভিযোগ করেন। প্রকৃত অবস্থা অবগত হওয়ার জন্য তাঁর উপরওয়ালা 'ডিরেক্টার সাহেব ঘটনাস্থলে উপাস্থত হয়ে দ্বজেন্দ্রলালের স্বপক্ষেই মৃত দেন। কিন্তু ছোটলাট তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে নানাভাবে তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেন। 'দ্বজেন্দ্লাল সম্পর্কে নিজেই িলখেছেন :

এই সময় স্যার চাস এিএট- বঙ্গদেশের লেপ্টনান্ট-গবর্নর ছিলেন। তান উন্তরুপ বিদ্রাঃ” দোঁখয়া, উত্ত বিষয়ে তদন্ত কাঁরতে স্বয়ং মেদিনীপুরে আসেন কাগজপত্র দোখরী আমাকে অযথা ভর্ংসনা করেন। আমি আমার মত সমর্থন করিয়া বঙ্গদেশণয় সেটেলমেন্ট আইন বিষয়ে তাঁহার অনাভিজ্ঞতা বৃঝাইয়া দিই ।.. এই উত্তর শুনিয়া ছোটলাট আমার পূর্ব ইতিহাস জানিতে চাহেন তাহা অবগত হইয়া কাঁলকাতায় গিয়া 'ভাঁবধ্যতে সেটেলমেন্ট আঁফসারাঁদগের কর্তব্য

চোদ্দ

বিষয়ে এক দীর্ঘ মন্তব্য লেখেন এবং তাহাই আইনে এসেটেল্মেণ্ট ম্যানুয়েলে'র নোটের ভিতর) ঢূকাইয়া দেন, এবং ফকিছাদন পরে আমার প্রমোশন বন্ধ করেন। স্বেরাচত জশীবনশ : জল্মভূমি, কার্তক, ১৩০৪)

দ্বজেন্দ্রলালের কর্মজীবন কোনোদিনই সুখের হয় নি। উপরওয়ালাদের সঙ্গে সংঘর্ষে তাঁর মনের মধ্যে যে তিন্ততার সাঁন্ট হয়োছল, তার পাঁরচয় তাঁর বহু রচনার মধ্যে পাওয়া যায়। তান এক সময়ে চাকরি ছেড়ে দিতে চেয়োছলেন। দাস্যবৃত্ত তোষামোদকে তান অন্তরের সঙ্গে খণা করতেন। তাই কর্মজীবনে তাঁর পক্ষে উন্নাতি করা সম্ভব হয়ান। ১৮৯৪ খ্রীস্টাব্দের আগস্ট মাস থেকে প্রায় ৭1৮ বংসর তিনি আবগারী বিভাগের প্রথম পারদর্শকের কাজ করোছিলেন। ১৮৯৮ শ্রীস্টাব্দের মার্ মাস থেকে প্রায় আড়াই বছর 'তাঁন “ল্যান্ড রেকর্ডস এগ্রকালচারে"র সহকারী িরেক্টারের পদেও আঁধান্ঠত ছিলেন।

বিবাহ পাঁরবারক জশবন £ জ্ত্ী-বিয়োগ £ ১২৯৪ সালের বৈশাখ মাসে (১৮৮৭) দবজেন্দ্রলালের সঙ্গে সংপ্রাসদ্ধ হোঁমওপ্যাঁথক ডাক্তার প্রতাপচন্দ্র মজঈদারের জ্যেন্ঠা কন্যা সুরবালা দেবীর বিবাহ হয়। সৃরবালা দেবা 'দ্বজেন্দ্র-কাঁবমানসের উপর অসাধারণ প্রভাব বস্তার ডে [দ্বজেন্দ্রলালের 'বিবাহ-প্রসঙ্গেও একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য জ্ঞানেন্দ্রলাল

রে ভা

দিলেন। কিন্তু বিবাহের পূর্বে কৃফনগরের কোন এক প্রবল পক্ষ, যাহারা বিবাহে যোগ দিবেন

তাঁহাদগকে সমাজচ্যুত কারবার চেম্টা কারবেন, এই সংবাদ পাইয়া তাঁহারা সহসা চলিয়া গেলেন।

যাহা হউক, বিবাহ হইয়া গেলে আমরা ভ্রাতাগণ 'দ্বজু নবোঢ়া বধূকে সঙ্গে কারয়া কৃষ্ণনগরে

লইয়া আসিলাম; দ্বিজেন্দ্রের এই বাহে আমরা যোগ দেওয়া সত্তেও কেহ আমাঁদগের শবরৃদ্ধে

দাঁড়াইলেন না। কিন্তু প্রকাশ্যভাবে দ্বিজেন্দ্রের সাহত তখন কেহ চাঁলতে স্বীকৃত হইলেন না।

নেব্যভারত : শ্রাবণ, ১৩২০)

বিলাত থেকে ফিরে আসার পর 'দ্বজেন্দ্রলালের বিরুদ্ধে যে সামাজিক প্রাতাক্রয়া তীব্র হয়ে উঠেছিল, বিবাহ-ব্যাপারে তাই চূড়ান্ত শর্ষে আরোহণ করোছিল।

'দিবজেন্দ্লালের বিবাহত জাবন অত্যন্ত সুখেই কেটেছিল। রূপবতী গুণবতা স্ত্রীর স্পর্শে তাঁর সাংসারিক জাঁবন পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। 'দ্বজেন্দ্রজীবনশীকার উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সাণ্চিত অর্থ থেকেই দ্বিজেন্দ্রলাল “সুর-ধাম” 'নর্মাণ করেন। ১৮৯৭ খ্রীস্টাব্দের ২২শে জানুয়ারী 'দলশপকুমার রায় জন্মগ্রহণ করেন, ১৮৯৮ খ্রীস্টাব্দের ১৩ই সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন কন্যা মায়াদেবী। 'দ্বজেন্দ্রলালের মৃত্যুর প্রায় তিন বছর পরে রাম্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পত্র ভবশঙগ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কন্যার বিবাহ হয় (২৭ মার্চ, ১৯১৬)। ্বিজেন্দ্ুলালের -সাহাত্যক জীবনের উপর তাঁর পত্নীর প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্মূলক :

সামাঁঞজক অন্যায়ের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে তানি যেমন 'একঘরে' নকশার ভিতর 'দিয়ে তার যোগ্য প্রত্যুত্তর 1দয়োছলেন, 'তেমাঁন অন্যাদকে নব-পারণীতা পত্ণীকে ছিরে তাঁর হদয়োচ্ছৰাস গখীত-কাঁবতার স্ফাঁটক-পাত্রে স্বর্ণ-মাদরার মত বহহল উজ্জল হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। কাব ধদবজেন্দ্রলালের মানস-জবনে এই দঁট ধারা লক্ষ্য করা যায়। একাঁদকে আত্মমূণ্ধ প্রেম-বিহবল স্বনাতুর কাবাচিন্ত, আর একাঁদকে সামাজক অসম্গাঁততে ক্ষৃব্খ সামাঁজক মানূষ। কখনও-কখনও এই দীট বিরুদ্ধ ধারা একত্রিত হয়ে কাতার ভাব রূপের ক্ষেত্রে বাঁচতমুখী জটিলতার সৃচ্টি করেছে! অবশ্য এই দূ ধারাই কাঁবর স্বভাবগত বোশন্ট্য। পত্রী সুরবালার প্রেম দাম্পত্য-রস অপর কোটিতে সামাঁজক নির্যাতন-_এই দু ব্যাপার একন্রিত হয়ে কাঁবমানসের এই স্বরুপ- ধর্দকে তীব্রতর ত্বরান্বিত করেছে।.. 'দ্বজেন্দুলালের দ্বিতীয় কাব্গ্রন্থ আর্ধগাথা ্বিতণয় ভাগ) ১৮১৩ খ্রীস্টাব্দে প্রকাঁশত হয়। এই কাব্যের সহজ অকৃতিম উচ্ছ্বাস প্বিজেন্দ্রলালের

প্রেমস্বপন সুখ-মাধূর্যময় দাম্পত্য-জীবনকেই কাব্যমনণ্ডিত করে তুলেছে। (দ্বজেন্দূলাল : কাঁৰ নাট্যকার, রথণল্দ্রনাথ রায়, প্‌ ১৫)

পনর

ষোল বছরের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যময় দাম্পত্যজীবন 'দ্বজেন্দ্রলালের মনোজীবনকে সমদ্ধ করে তুলেছিল। প্রহসন, ব্যঙ্গ-কাবিতা, হাঁসির গান, কাব্যনাট্য, রোমান্টিক গশীতকাঁবতা প্রভাতি "বাঁচন্ত্ সৃষ্টির প্রাচুর্যে কবিজীবন তখন পৃর্ণোচ্ছৰীসত। সাষ্টসাফল্যের এই চরম মূহূর্তেই এলো নিদারুণ আঘাত একটি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করে সূরবালা দেবীর মততযু হল (২৯ নভেম্বর, ১৯০৩)। দ্বিজেন্দ্রলাল তখন সরকারী কাজের জন্য মফঃস্বলে গিয়ৌছলেন। তারযোগে সংবাদ পেলেন যে স্ত্রী মরণাপন্না, কন্তু দুর্ভাগ্যবশত "তান তাঁকে জশীবত দেখতে পারেন '[ন। স্তীবয়োগের এই মর্মান্তিক আঘাত থেকে দ্বজেন্দ্রলালের কয়েকটি শ্রেন্ঠ কাঁবতা জন্মলাভ করেছে। তাঁর স্ত্রীবয়োগ বাৎসল্যরসের কাবতাগ্ঁল বাংলা সাহত্যে স্থায়ী আসন লাভ করেছে। আন্তারক গভীর মর্মবেদনায় কাবতাগাঁল হদয়স্পশর :

এই ছিল দেবীমৃর্তি; আলাপ, বিলাপ, হাস্য, রোদন, , কার্ছল কাছে,

কোথায় গেল 2 'ফারযে দাও হে বিশবপাঁতি! দাবী কাছ,

বল কোথায় আছে ? এই যে ছল, গেল কোথায় 2 দেখা হবে আবার, !কম্বা

চির-বিচ্ছেদ ? আম পার্লাম না ক; তবে তৃমি করে দাও হে প্রভু

রহস্য ভেদ

(অল্টাদশ চিত্র, আলেখ্য)

পূর্শিমা-মিলন ইভনিং ক্লাৰ £ 'দ্বজেন্দ্লাল অত্যন্ত বন্ধূবংসল মজাঁলশ মানুষ ছিলেন। অনেক জ্ঞানী, গুণী, সংগীতজ্ঞ সাহত্যরাসক ত'র বাড়তে যাতায়াত করতেন। স্লীবয়োগের পর থেকে বন্ধুবান্ধবদের সাহচর্ষে নানা আলোচনায় দুঃসহ ব্যথা ভুলে থাকতে চাইতেন। ১৯০৫ শ্রীস্টাব্দে তান প্টীর্ণমানীমলন' নামে এক সম্মেলনের প্রাতষ্ঠা করেন। এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য আঁভপ্রায় সম্পর্কে তিনি একখান চাঠতে জানয়েছেন : এক নূতন খেয়াল মাথায় আঁসয়াছে।.. আমি অর্থাৎ আমরা) ইচ্ছা কারযাছ, প্রাত পূর্ণিমায় দেশশুদ্ধ সাহত্যসেবী সাহত্যানূরাগদের একত্র করিয়া, এক-এক স্থানে এক- একবাব প্রাত “পীর্ণমা' উপলক্ষে শমলন' কবা যাইবে। নাম হইবে “পার্ণমাীমলন'। ইহাতে কাঁলকাতাস্থ সমৃদয় সাহাত্যকদের মধ্যে অবারিতভাবে মেলা-মেশা, ভাব-ীবাঁনময়, প্রসীতবর্ধন 'পারিচয়াদ হইবে; আর তাহার সঙ্গে সেখানে ধেখানে যেমন হইবে) গৃহস্বামীর প্রবাত্ত সামর্থাযান্সারে, অহ্প ?কছ জলযোগ__এই ধর যেমন চা, সরবত প্রভৃতি চুরুট তামাকের (সগারেটেরও!) ব্যবস্থা থাকিবে। €দেবকুমার রায়চৌধুরশর কাছে লাখত পত্র, দ্বিজেন্দ্রলাল : দেবকুমার রায়চৌধুরী, . পৃ ৪১০-১১) দ্বজেন্দ্রলালের &নং সুকিয়া স্ট্রগটের বাসভবনে (১৩১৯১ খ্রীস্টাব্দের দোল-পাৃর্ণমার সায়াহে) পার্ণমা-মিলন'-এর প্রথম আঁধবেশন বসে। পীর্নমা-ীমলন' প্রায় দু'বছর ধরে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়োছিল। দ্বিজেন্দ্রলাল খুলনায় বদাঁল হওয়ার পর এই আঁধবেশন ক্রমশ অনিয়মিত হয়ে পড়ল, শেষে একেবারে বন্ধই হয়ে গেল। “পৃর্ণিমা-মিলন' স্বজ্পায় হলেও তৎকালীন 'শাক্ষত সংস্কাতিসেবী বাঙালির একাট তীর্থক্ষেত্রে পারণত হয়োছল। "পীর্ণমা- মিলন'কে কেন্দ্রে করে বাংলা সাহত্যের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে 'দ্বজেন্দ্রলাল ছাড়া আরো অনেকের বাঁড়তে পখর্ণমা-মিলনের আঁধবেশন হয়েছে তার মধ্যে দ্বিজেন্দ্রলালের বাল্য- বন্ধু লালিতচন্দ্র মিত্র নোট্যকার দীনবন্ধু মিন্রের পনর), ডান্তার কৈলাসচন্দ্র বসু গুপ্ুন্যাসিক দামোদর মুখোপাধ্যায়, 'রসরাজ' - অমৃতলাল বসু, সারদাচরণ মিত্র, অধ্যক্ষ িরশচন্দ্র বসু, শ্যালক ডান্তার 'িতেন্দ্রনাথ মজুমদার, ব্যোমকেশ মুস্তাফা, হণরেন্দ্রনাথ দত্ত, কাব প্রমথনাথ রায়চৌধুরী, প্রাচ্যাবদ্যামহার্ণব নগেন্দ্রনাথ বস্ন প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।

৭০

যোল

পৃর্ণিমা-মলনের প্রথম আঁধবেশনে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং উপাঁস্থত হয়ে তাঁর স্বরচিত গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করেন৷ লালতচন্দ্র মিত্রের বাঁড়তে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আঁধবেশনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর রবীন্দ্রনাথের 'পুরাতন ভূত্য' কবিতাটি আবাত্ত করেন। ডান্তার কৈলাস বসুর বাড়তে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আধবেশনে পার্ণিমা-মিলনের জন্যই দ্বিজেন্দ্রলাল “এটা নয় ফলার ভোজের নিমন্ত্রণ গানাট রচনা করেন। আঁধবেশনে নাট্যাচার্য গগাঁরশচন্দ্র মেঘনাদবধ কাব্য থেকে সীতা সরমার কথোপকথন অংশটি আবাঁত্ত করে শোনান। ষণ্ঠ আঁধবেশনে বিচারপাত সারদাচরণ মিন্রের বাড়তে কান্তকবি রজনীকান্ত সেন স্বরচিত গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করেন। আঁধবেশনেই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুরোধে 'দ্বজেন্দ্রলাল “সাধে নক বাবা বাঁল” গানাঁট গেয়োছলেন। দ্বিজেন্দ্রলালের জাঁবনীকার দেবকুমার রায়চৌধুরীর বাড়তে অনুষ্ঠিত একটি আঁধবেশনে দ্বিজেন্দ্রলাল স্বরচিত ইংরোজ হাঁসর গান গেয়োছলেন। পার্ণমা-মিলনের দোললীলা উপলক্ষে একবার আচার্য রামেন্দ্রসূন্দর 'ন্রবেদী মহাশয়ের “শুভ্রকেশ লালে লাল” হয়ে উঠেছিল।

দবজেন্দ্রলাল 'ইভানং ক্লাব'-এর সঙ্গেও ঘনিষ্ঞভাবে যুক্ত ছিলেন 'কালিকাতা ইভানং ক্লাব'-এর দু'জন উৎসাহী সভ্য--হাঁরদাস চট্টোপাধ্যায়ের (বখ্যাত পুস্তক ব্যবসায় গরুদাস চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের পূত্র) প্রমথনাথ ভট্রাচার্যের বিশেষ অনুরোধে দ্বিজেন্দ্রলাল এই সংস্থার সভাপাঁত হতে রাজ হলেন। দ্বিজেন্দ্রলালের সভাপাতিত্বে ইভাঁনং ক্লাবের শ্রীবৃদ্ধি হয়োছল। ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবনোদের 'নন্দকুমার”, বাঁঙকমচন্দ্রের পবষবক্ষ', দ্বিজেন্দ্রলালের চন্দ্রগুপ্ত' নাটক এই ক্লাবের সভ্যরা প্রকাশ্য রঙ্গমণ্টে আভিনয় করোছলেন। তাঁরা 'কালকাতা সংগীত-সমাজে'র সারস্বত সম্মেলন উপলক্ষে 'কমলাকান্তের জবানবন্দী” 'দিবজেন্দ্রলালের “সীতা” নাট্যকাব্যের ণক্যদংশ দক্ষতার সঙ্গে” অভিনয় করোছিলেন। “সীতা নাটকের আভনয়ে 'দ্বজেন্দ্রলাল নিজে বাল্মশীকর ভাঁমিকায় আভনয় করেছিলেন

ইভনিং ক্লাব আগে ছিল কর্নওয়ালিশ স্ট্রীটে, ক্রমে 'দ্বজেন্দ্রলালের নবানার্মত গৃহ 'সুরধাম'- এর নিচের তলায় স্থানান্তারত হল। "চন্দ্রগুপ্ত' থেকে 'বঙ্গনারী* পর্যন্ত তাঁর শেষাঁদকের নাটক- গুলি এইখানে বসেই লেখা হয়োছল। 'দ্বজেন্দ্রলালের মৃত্যুর পর "ইভনিং ক্লাব* উঠে যায়।

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন দেশাত্মবোধ £ শৈশব থেকেই 'দ্িবজেন্দ্রলালের মনে দেশপ্রেমের বীজ অগ্কারত হয়োছল। 'আর্যগাথা, [ প্রথম ভাগের ] কবিতাগ্ীলর একাঁট অংশ দেশপ্রেম-সম্পীকতি কবিতা পরবতর্ঁ কালের রচনায় এই ভাব আরো পারস্ফুট হয়েছিল। ১৯০৫ গ্রীস্টাব্দের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তাঁর দেশপ্রেমের দীপ্ত শতাঁশখায় উদ্ভাঁসত হয়ে ওঠে। এই সময়ের একাঁট ঘটনার কথা দেবকুমার রায়চৌধুরী উল্লেখ করেছেন :

সোৌদন ১৬ই অক্টোবর, ৩০এ আ'্বন, বাঙ্গালীর সেই চিরস্মরণীয় 'অরন্ধন' “বাখট- বন্ধনের পৃণ্যাহ | সোঁদন সকাল বেলায়__৯॥* কি দশটা বাঁজযাছে এমন সময়ে-_“কুল্তলশনের” *হেমমোহন বসু (এইচ বোস) মহাশয় হঠাৎ দিবজেল্ললালের কাছে আঁসযা 'ব্যস্ত-সমস্ত'-ভাবে তাঁহাকে বাঁললেন_“আজ সকালে গোল দণীঘতেও একটা প্রকাণ্ড সভা হবে। সেখানকার জন্য একটা গান লিখে দিন। এখনই চাই-_ছাপতে হবে।” বস্‌ মহাশযকে দয়া, দ্বিজেন্দ্রলাল তদ্দস্ডেই আমার সম্মুখে বাঁসয়া অনাধক দশ-পোনের ীমাঁনটের মধ্যে একটি আশ্চর্যরকমের উৎকৃষ্ট আগনগর্ভ গান__ঠিক যেন খেলার ছলে রচনা কাঁরয়া ফোললেন, এবং তৎক্ষণাৎ ইহা ককুন্তলণন' প্রেসে পাঠাইয়া দেওয়া হইল। অপরাহ্ু কালে 'দ্বজেন্দ্রলাল স্বয়ং একটি দলের নায়ক হইয়া, বাগবাজার পশুপাতি বাবুর সুবিশাল গৃহ-প্রাঙ্গণে গমন করিলেন; এবং সেই সাম্মালত, ্রমন্ত' জন-সমূদ্রের মধ্যে স্বরাচিত সঙ্গণীতসুধার সঞ্জীববনী ম্োভোধারা প্রবাহত কাঁরয়া দিলেন। €প্‌বো্ত গ্রষ্থ, প্‌ ৩৯৯)

্বদেশশ আন্দোলনের সেই উত্তপ্ত মৃহূর্তে দ্বিজেন্দ্রলালের জাতীয় সংগত গ্রীতহাসক নাটক জাতখয় জীবনের অবরুদ্ধ বেদনাকে মূর্ত করে তুলোছল। বাংলা সাহিত্যের মধ্যে এই ভাব নবচেতনায় প্রদগপ্ত হয়ে উঠোছিল :

সতর

50106 016 005 0121025 ০01 105/1050018 121 0২০৮ 1660060. 0১৪ 72010091 501710 £0. ৪.:20050 1001905105 007901061 200 00616 3 10101) 2) 11010108106 [0৬0 01 5111252 1) 1300291 10) /1010]) 0006 01 00061 01 1013 01155 ৪3 100 3550. ৬1960 [19551006001 006 50856 00656 019195 160 00 [9010191 63 01061070600 50 10010) 50১ 000 005 00৬10170610 00001) 10 2000 590901553 5017 ০0 00610. 106 10901091021 50155 ০0101750550 11176 006 7০119 0১০ [)/1150019. 1.9] 107, [২210100171820) 15015, 521919106৮1 (00090190191, 1৬01. 48. 10, 960 200 006 1906 [২2)9101 791000 ১2 50009 01) 006 1)6910 01 0) [601015 25 2. 21710705 17211, 25721020102 000 01 10 2. 50010072180 2. 00100110-50201 25 1090 17551 19621 10005/10 01710901) 008 1905 060001165 1১61 10110091 5216000.

(1:19 2100. 10011009501 0. ২. 109$-1056 50010 05915 5616 63001655101) : [1100)৬/15 (500910018 ০9. ০০ 41-42)

রবীল্দ্ূনাথ দ্বিজেন্দ্রলাল £ 'দ্বজেন্দ্ূলালের জীবনের শেষ অধ্যায়ের মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যমূলক ঘটনা হল রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর মতাঁবরোধ। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর সাহাত্যিক বিতর্ক মতানৈক্য এই শতাব্দীর প্রথম দশকের বাংলা সাহত্যের একাঁট উল্লেখযোগ্য ঘটনা। রবীন্দ্র-জীবননকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় বলেছেন : “দ্বজেন্দ্রলালের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যে মতান্তর তাহা কেবলমান্র ব্যান্তগত জীবনের ঘটনা-সংক্রান্ত নয়, ইহার মধ্যে বাংলা সাঁহত্যের শেষ মনোবাঁত্ত রুচবোধের হীতিহাস জাঁড়ত রাঁহয়াছে।” রেবাীন্দ্র-জীবনন, "দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ২৭৭) উনাঁবংশ শতাব্দীর শেষাঁদক থেকেই সাহত্যে রবীন্দ্রানুগ ধারার সঙ্গে রবীন্দ্রাবরোধী একটি ধারা সংস্পম্ট হয়ে উঠাছল। রবান্দ্রবিরোধী দলের প্রধান পাত্রকা ছিল দুটি--সুরেশচন্দু সমাজপাঁত সম্পাঁদত 'সাহত্য' সাপ্তাহক 'বঙ্গবাসণ" পাত্রকা কিন্তু দ্বজেন্দ্রলালের নেতৃত্বেই রবীন্দ্রীবরোধশ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ: করোছল।

অথচ এক সময় 'দিবজেন্দ্রলাল যখন সাহত্যক্ষেত্নে অপারচিত 'ছলেন, তখন তাঁকে বৃহত্তর সাঁহত্ক্ষেত্রে রবশন্দ্রনাথই পাঁরাচিত করার দাঁয়ত্ব নিয়োছলেন। 'দ্বজেন্দ্রলালের 'আর্ধগাথা, (দ্বিতীয় ভাগ) “আষাঢ় 'মন্দ্র' কাব্যকে রবীন্দ্রনাথ আভনান্দিত করেন। 'দ্বজেন্দ্ূলালও তাঁর ধবরহ" প্রহসন রবীন্দ্রনাথের নামে উৎসর্গ করেন। প্রহসনটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাঁড়তে আঅভনীতও . হয়ৌোছল। সাহত্য-সম্পাদক সরেশচন্দ্র সমাজপাঁত বলেছেন : “সে সময়ে [দ্বিজেন্দ্রলাল রবীন্দ্রনাথ-উভয়েই একান্ত পরস্পরের গুণমুদ্ধ হয়ে পড়াছিলেন। দুই বন্ধুর মধ্যে ঘানম্ঠতা এই অবস্থায় খুবই প্রগাট হয়ে উঠোছল ।” (দ্বিজেন্দ্রলাল : দেবকৃমার রায়চৌধুরা, প্‌. ২৬২)। কিন্তু দিবজেন্দ্রলালের জনীপ্রয় গরীতহাঁসক নাটক সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ নীরব ছিলেন। রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকৃমার মুখোপাধ্যায় মনে করেন, এই নীরবতা "দবজেন্দ্রলালের মনঃপৃত হয়ান (রবান্দ্র-জীবনপ, "দ্বিতীয় খণ্ড, প্‌ ২৮২)।

কিস্তু দৃষ্টভাঙ্গির পার্থক্যই রবান্দ্র-দ্বিজেন্দ্র বিরোধের মূল কারণ “রবীন্দ্রনাথের আত্মভাব- মুগ্ধ কল্পচারণা, সংকেত-ব্যপ্নার আলোছায়া সুগভীর অধ্যাত্মদৃস্টি দ্িবজেন্দ্রলালের সমর্থন পায় 'ন; কারণ কাঁবমানসের দিক থেকে 'তাঁন 'ছিলেন ভিন্ন মার্গের পাঁথক।” ১৩১১ সালে প্রকাঁশত 'বঙ্গভাষার লেখক' গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের যে আত্মজীবনী প্রকাঁশত হয়, তাকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দ্বিজেন্দ্লালের বিরোধ তীব্রতর আকার ধারণ করে। রবান্দ্রনাথের বিরুদ্ধে দিবজেন্দ্রলালের আভযোগ ছিল দু : প্রথমত, রবশন্দ্রকাব্য দ্বিজেন্দ্রলালের মতে অস্পষ্ট, 1দবতসয়ত, দিজেন্দরলাল রবান্দ্কাবোর বিরুদ্ধে দুনর্পীতর আভিযোগ করোছিলেন। বছর দুই* দই কার মধ প্রকাশ্য বিরোধ বন ছিল। ইতিমধ্যে [দ্বজেন্দ্লাল রবীন্দ্রনাথের গেক্ার এক

প্রশংস সমালোচনা প্রকাশ করেন (বাণী, কার্তক ১৩১৭)। তাতে অনেকেই এই বিরোধ রা আশা করোছলেন। অবশ্য “সমর্থকদের মধ্যে তখনও মসাীযুদ্ধ চলছিল। ঘটনাটি

আঠার

চরমে উঠল 'ম্বজেন্দ্রলালের 'আনন্দ-বিদায়, প্যারাঁড রচনার পর থেকে এই প্যারাঁডতে তান রবীন্দ্রনাথকে অশোভনভাবে আক্রমণ করোছিলেন।

রবীন্দ্রনাথকে কশাঘাত করার স্বপক্ষে 'দিবজেন্দ্ুলাল যতই যাান্ত দেখান না কেন, রঙ্গালয়ের দর্শকেরা কেউ সোঁদন এই ব্যান্তগত আক্মণকে স্বীকার করে নিতে পারেন নি। দ্বিজেন্দ্লালের মনেও একটি প্রতিক্রিয়ার সৃন্টি হয়োছল। মৃত্যুর পূর্বে তানি ভারতবর্ষ পান্রকায় যে ভাঁবষ্যদবাণণ করেছিলেন, তা অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়োছিল : “আমাদের শাসনকতারা যাঁদ বঙ্গসাহত্যের আদর জানিতেন, তাহা হইলে বিদ্যাসাগর, বাঁঙকমচন্দ্রু মাইকেল 76618 পাইতেন রবীন্দ্রনাথ 0181 উপাঁধতে ভূত হইতেন।” (সূচনা : ভারতবর্ষ, আষাঢ় , ১৩২০)। 1দ্বজেন্দ্রলালের মৃত্যুর প্রায় ছ'মাস পরেই রবীন্দ্রনাথ নোবেল প্রাইজ পেয়োছলেন।

শেষজশীবন ও, মৃত্যু 8 ১৯১২ খ্রীস্টাব্দের ২৯শে জান্‌য়ার "দবজেন্দ্রলাল বাঁকুড়ায় বদাল হন। সেখানে তন মাস কাজ করার পর তিনি বদাল হন মুঙ্গেরে। বাঁকুড়া থেকে মুুঙ্গের যান্রাকালে কলকাতায় এসে 'তিন সন্ব্যাস রোগে আক্রান্ত হন। মোঁডক্যাল কলেজের "প্রন্সিপ্যাল ক্যালভার্টের চিকিৎসাধীন হয়ে তিনি এই দুরারোগ্য ব্যাঁধর জন্য এক বছর ছুটি 'িনতে বাধ্য হন। চাকুরির উপর তিনি কোনো দিনই সন্তুষ্ট ছিলেন না, তাছাড়া দেহও ব্লমশ অপটু হয়ে আসাছল। ১৯১৩ গ্রীস্টাব্দের ২২শে মার্চ তান অবসর গ্রহণ করেন স্বাধীনচেতা তৈজস্বী দবজেন্দ্র- লালের চাকুরির জীবন সখের হয়ান, স্ত্রীবয়োগের পরে এই বেদনা চরমে উঠোছিল। দবজেন্দ্রলালের শেষজীবনের মানীসক অবস্থা একখান িাঠিতে ফুটে উঠেছে :

জীবনপথে যতই অগ্রসর হ্যচ্ছ, চারাদক থেকে. শুধু ওদাস্য অবসাদ যেন আমায় ঘিরে ফেলছে। সংসার অসার' আগে দবচাবে অন্যমানে বাফতাম এখন রাত পদে হাড়ে হাড়ে বুঝছি। আপন মনের 'দিকে চেয়ে দোখ, সেখানে সংসারের উপরে আবামশ্র বিতৃষকা ছাড়া আর তো কিছুই খশুজে পাই না। আসান্ত বা ভোগাঁলপ্সার এখন আর [তিলার্ধ নাই। তবে, কেন__

গকসের জন্য এই পুঞ্জভূত বিড়ম্বনা নিরন্তর ভোগ করে মার? €গয়া থেকে দেৰকুমারকে লাখত চিঠি, ১৩ জানুয়ার, ১৯০৭)

অবসর গ্রহণ করার কিছুকাল আগে 'দিবজেন্দ্রলাল একটি প্রথম শ্রেণীর সাঁচত্র মাঁসক পান্রকা প্রকাশ করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় আযান্ড সম্স পাত্রকাট' প্রকাশ করার ভার নিলেন। দ্বিজেন্দ্রলালকে সহায়তা করার জন্য সহকারী সম্পাদক 'নযুন্ত হলেন পাণ্ডিত অমূল্যচরণ 'বদ্যাভূষণ। প্রথম সংখ্যার জন্য (আষাঢ়, ১৩২০) “সূচনা অংশ লিখোছলেন, তাছাড়া এঁ সংখ্যায় প্রকাশযোগ্য রচনাগুীলও নর্বাচন করোছলেন। 'কল্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় “ভারতবর্ষ প্রকাশের পূবেই তান সন্ব্যাস রোগে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হলেন (৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৩২০, শানবার অপরাহ্‌ পঁচি ঘাঁটকা)। রোগাক্রান্ত হওয়ার পর মান্র সাড়ে চার ঘণ্টা পরে “শুক্লা দ্বাদশীর চন্দ্রকরোজ্জহল রান্র সাড়ে নয় ঘাঁটকায়” “সূরধামে” তাঁর মৃত্যু হয়।

সোদন শাঁনবার--পূর্ব হইতেই কথা ছিল যে, সৌঁদন দ্বিজেন্দ্র প্রসাদদাসবাবু, রান্তরে ক্ষণরোদপ্রসাদ বদ্যাবনোদ মহাশয়ের রচিত '্ভগঙ্ম” নাটকের অভিনয় দোখতে থিয়েটারে যাইবেন।.. 1827811৮58585559585 প্রসাদদাসবাবূকে বিদায় দিয়া দ্বিজেন্দ্র তাঁহার "শসংহলাবজয়' নাটকের পাণ্ডুলাপ সংশোধন

আৃপয়া, 8০587 58755585 ১৮৮৬ পরেই তাঁহারা শ্নতে পাইলেন, দ্বজেন্দ্রু ভগ্ন জাঁড়তস্বরে 15০" বাঁলয়া ডাকিলেন। সেই গবকৃত ্ঠস্বর শুনিয়া তাঁহারা 'দ্বারতপদে আসিয়া দেখেন, ধদ্বজেন্দ্রু অচৈতন্য হইয়া গিয়াছেন।

উনিশ

শ্কংসা আরম্ভ হইল। ক্রমে দ্বজেন্দ্রের বন্ধৃ-বান্ধব, আত্মধয়-স্বজন, তাঁহার *বশুর সপ্রাসম্ধ হোমিওপ্যাথিক ডান্তার প্রতাপচন্দ্র মজুমদার মহাশয় সপনত্র ডোন্তার শ্রীযুন্ত জিতেন্দ্রনাথ মজৃমদার) আসলেন। 'চাঁকৎসার ভ্রুটি হইল না, কিন্তু গদ্বজেন্দ্ের আর জ্কান হইল না। তান একবার মান্র স্ট: বলিয়া জাঁড়তস্বরে তাঁহার প্রাণাধিক পত্র গ্রীমান দিলীপকুমারকে ডাকিয়া- গিলেন- সেই তাঁহার ইহজীবনের শেষ কথা; তাঁহার বিলপ্ত সংজ্ঞাও আর 'ফাঁরয়া 'আইসে নাই।

(ক্রিজেন্দুলাল : নবকৃষ্ণ ঘোষ, প্‌ ৩৬১)

মৃত্যুর পরে 'দ্বজেন্দ্রলালের এই আকাঁস্মক মৃত্যুসংবাদ শবদ্যদবেগে চারাদকে ছাঁড়য়ে পড়ে। বঙ্গীয় সাহত্য পাঁরষদের উদ্যোগে যে শোকসভা অনাষ্ঠত হয়োছল (৪ঠা শ্রাবণ, ১৩২০) তার বিপুল জনসমাবেশ থেকেই দ্বিজেন্দ্রলালের জনাপ্রয়তার প্রমাণ পাওয়া গিয়োছল। পারষদের কার্যাববরণণী (১৩২০) থেকে জানা যায় : “অপরাহ ৩টা হইতেই লোক-সমাগম আরম্ভ হয়। প্রায় ৪টার সময় পাঁরষদের বিরাট সভাস্থল লোকে পাঁরপূর্ণ হইয়া যায়। 'বাঁভন্ন তলের তিনটি পৃথক আঁধবেশনেও শবরাট জনসঙ্বের স্থান-সংকুলান অসম্ভব হওয়ায় নিকটস্থ পরেশনাথের বাগানে সভা কারবার প্রস্তাব হইল।...কয়েক 'মাঁনটের মধ্যেই পরেশনাথের বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণ পূর্ণ হইয়া গেল। তিন সহস্রেরও উপর লোকসমাগম হইয়াছিল। পাঁরষদের গৃহ-প্রবেশ উপলক্ষেওড এত 'লোকসমাগম হয় নাই।” একজন প্রত্যক্ষদর্শর বিবরণ থেকে. জানা যায় : “সেই জনতার বন্যা দৌখয়া স্বগাঁয় সাহিত্যিক শৈলেশচন্দ্র মজুমদার (বঙ্গদর্শন নবপর্যায়ের সম্পাদক) বন্ধুবর আমাকে বিয়াছলেন,_'আর সভার দরকার কি? এই হয়ে গেল! আর 1 চান? সত্যই সেই বিপুল জনসঙ্ঘ দর্শন কাঁরয়া দদ্বজেন্দ্রলালের গুণগ্রাহীদের মন, সেই [বষাদ বেদনার সময়েও এক অপূর্ব আনন্দে পূর্ণ হইয়াছিল ।” (দ্বিজেন্দ্রলাল :নবকৃষণ ঘোষ, পৃ. ৩৬৬)। বঙ্গীয় সাহিত্য পাঁরষৎ সভায় সভাপাতিত্ব করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয়। ১৩২০ সালের ৯ই শ্রাবণ রাসাঁবহারী ঘোষের সভপাতিত্বে টাউন হলে আর একাঁট স্মৃতিসভা অনুচ্ঠিত হয়। 'দ্বজেন্দ্রস্মৃতি ভান্ডারের সংগৃহীত অর্থে কালকাতা বিশ্বাবদ্যালয়ে একাট পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সমসামায়ক বহু পর্র-পান্রকায় ্বজেন্দ্লালের সাঁহত্য-প্রীতিভা ব্যান্তজীবনের কিছু ছু আলোচনা প্রকাশত হয়োছল। সেই সময়কার পত্র-পান্রকায় 'দ্বজেন্দ্রলালের প্রশাস্তমূলক কয়েকটি কাঁবতাও প্রকাশিত হয়। টাউন হলের দ্মৃতিসভায় লালতন্দ্র মিত্র-রচিত যে গান গাওয়া হয়, তা 'গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজা” হলেও সকলকে মুগ্ধ করে : যাঁদও তোমার নিত্য বিরহে, নেহার কেবল আঁধার ঘোর, কেটে যাবে মেঘ তোমার গাঁরমা, মোহের রজনী কারবে ভোর। আমরা পৃজিব প্রাতিমা তোমার- মানুষ আমরা নাঁহত মেষ, জ্যোতি তোমার, ধর্ম তোমার, সাধনা তোমার ব্যাঁপবে দেশ। (ভারতবর্ষ, শ্রাৰ ১৩২০)

১1

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় 2 সাহিত্য-সাধন৷

নাটক প্রহসন

ভূমিকা : দ্বিজেন্দ্রলাল কাব গণীতকার হিসাবেই সাহাত্যিক জীবন শুরু করেন, কল্তু নাট্যকার হিসাবে তাঁর জনাপ্রয়তা অসামান্য। বাংলা নাটকের মধ্যে তান উন্নত রুচির একাঁট পাঁরমণ্ডল রচনা করেছিলেন। কবি-সমালোচক মোহতলাল মজুমদার যথার্থই বলেছেন :

.. শেদবজেন্দ্রলাল ভাবকে কেবল রসচর্চার বিষয় না কাঁরয়া-__ভাবের জাীবনোদ্যম-সুূলভ রূপ দেখাইবার জন্য, অতঃপর নাটক-রচনায় মনোনিবেশ কারলেন এবং তাহার দ্বারা রগ্গমণ্ের নাট্যাদর্শ_তাহার একাঁদকের দুনাীতি-মধূর লঘু-লাস্যের স্রোত এবং অপর "দকে সেই জশবনাবেগবাঁজত মধ্যযৃগীয় ভান্তাবহহলতা পাপপুণ্য-সংস্কারের তামাসক আদর্শ-_ সংশোধন কাঁরতে অগ্রসর হইলেন। নাট্যাশজ্পের আদর্শ উন্নত রূচি মাজত কাঁরয়া এবং নাটক রচনার কাব্যসঞ্গত কারুকলার দ্বারা শিক্ষিত-সমাজকে নাট্যানূরাগণ করিয়া, তিনি সেই যুগের অবোধ ভাবাতিরেককে পৌরুষ মন্ষ্যত্বসাধনার পথে প্রোরত কারবার যে চেষ্টা কারয়াছলেন-_জাতির প্রাণে যে উৎসাহ সঞ্চার কারয়াছিলেন, তাহার কথা আমরা জানি।

(সাহিত্য-বিতান : দ্বিতীয় সং, ১৩৫৬ প্‌ ৯০) নাট্যসাহিত্য আঁভনয় সম্পর্কে দ্বিজেন্দ্রলাল নিজেই উল্লেখ করেছেন :

[িলাতে যাইবার পূর্বে আম 'হেমলতা' নাটক ন্নীলদর্পণ' নাটকের আঁভনয় দোখয়াছিলাম মানত, আর কৃষ্ণনগরের এক শৌখাীন অভিনেতৃদল কর্তক আঁভনীত 'সধবার একাদশণ' গ্রল্থকার' নামক একখান প্রহসনের আভনয় দৌখ, আর 4১001507-এর 04০ এবং 317915596216-এর 1%17%1 04/-এর আংাঁশক আঁভনয় দেখি। সেই সময় হইতেই আঁভনয় ব্যাপারটিতে আমার আসান্ত হয়। বলাতে যাইয়া বহু রঙ্গমণ্টে বহু আঁভনয় দোঁখ এবং ক্রমেই আঁভনয় ব্যাপারাট আমার কাছে প্রিয়তর হইয়া উঠে।

[বিলাত হইতে ফিরিয়া আঁসয়া আম কাঁলকাতার রঙ্গমণ্সমূহে আঁভনয় দেখি এবং সেই সময়েই বঙ্গভাষায় লাখত নাটকগুলির সহিত আমার পাঁরচয় হয়।

(আমার নাট্য-জীবনের আরম্ভ : নাট্যমান্দির, শ্রাবণ, ১৯৩১৭) _ নাট্যকার দ্বিজেন্দ্লালের সর্বপ্রথম পারচয় ঘটে প্রহসনের মাধ্যমে তাঁর সর্বপ্রথম প্রহসন 'কল্ক-অবতার' প্রকাশিত হয় ১৮৯৫ খ্রীস্টাব্দে। ১৮৯৫ খ্রীস্টাব্দ থেকে ১৯০২ খ্রীস্টাব্দ পযন্ত কালকে প্রধানত দ্বিজেন্দ্রলালের প্রহসন রচনার কাল বলা যায়। সম্পর্কে দ্বিজেন্দ্রলাল লিখেছেন :

প্রথমতঃ প্রহসনগূলির আভনয় দোঁখয়া সেগুঁলর স্বাভাবিকতায় সৌন্দর্যে মোহত হইতাম বটে, কিন্তু সেগুলির অশ্লগলতা কুরুচি দোঁখয়া বাঁথত হই। সময়ে 'কাঁহক-অবতার, -একথানি প্রহসন গদ্যে-পদ্যে রচনা করিয়া ছাপাই। পরে আমার পূর্বরচিত কতকগুলি হাঁসির গান একতে গাঁথয়া ণবরহ' নাটক রচনা কার? তংপরে উত্তর্‌প ্ত্যহস্পর্শ রচনা কার এবং উহাও স্টারে অভিনীত হয়। পরে প্পরায়াশ্চত্ত' রচনা কার এবং সেখান ক্লাসকে আভনত হয়।

(আমার নাট্য-জীবনের আরম্ভ : নাট্যমান্দর, শ্রাবণ, ১৩১৭)

সমজ-বিদ্রাট কাঁলক-আ্ববতার (৯ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৫) : ্বজেন্দুলালের প্রথম প্রহসন , 'কল্ক-অ্ববতার'। নাট্যকার নামাটর সঙ্গে 'সমাজ-বিদ্রাট' যুত্ত করে বার্ণত বিষয়কে আরো স্পচ্ট : করে তুলেছেন। 'একঘরে' নকশায় বার্ণত সমাজবিদ্দপের তাঁরতা এখানেও আছে। নক শাটিতে বযা্তগর্ত বিদ্বেষ তীশব্রতর, ক্ষেত্র সংকীণর্ণ, কিন্তু প্রহসনটির ক্ষেত্র অনেক বোঁশ বিস্তৃত। 'একঘরে' নিন্দিত হয়েছিল, কিন্তু 'কিলিক-অবতার” আঁভনান্দিতই হয়োছল। নবকৃষণ ঘোষ তাঁর , ঁদ্বজেন্দ্ললাল' গ্রন্থে (পৃ'৬৮) লিখেছেন : “একঘরে পাঠ করিয়া কাঁবর 'হন্দসমাজভুন্ত

একি?

আত্মীয়রাও অসন্তোষ প্রকাশ কাঁরয়াছিলেন। কিন্তু 'কজিক-অবতার, পাঠ করিয়া রক্ষণশখল সমাজের নেতা 'বঙ্গবাসন'ও লিখিয়াছিলেন-“এরূপ পুস্তক বঙ্গভাষায় আর হয় নাই।” প্রহসনখানিতে নব্যাহন্দ,, ব্রাহ্ম, পাণ্ডিত িবলাত-ফেরত-_এই পাঁচাটি সম্প্রদায়ের উপর

বিদ্রুপের শরজাল বার্ধত হয়েছে। যখন এই পাঁচটি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ বিতর্ক চূডান্ত হয়ে উঠেছে, তখন রহ্গার অনুরোধে বিষ কাঁলকরূপে অবতীর্ণ হলেন। কজ্কির এই মধ্যস্থতায় ধিবকদমান সম্প্রদায়গ্ীলর মগ্ন্যে মিলন স্থাঁপত হল। কাঁল্কদেব তাঁদের 'দলেন বিশ্বাস, প্রেম মনয্যত্বের মন্ম :

কাঁদন সমাজ একঘরের ভয়ে টি'কে থাকে

[বশবাস, প্রেম, মনুষ্যত্বই সমাজটাকে রাখে।

'কলিক-অবতার' স্বর্গ মর্ত্য, দেবতা মানুষ-প্রভীতি আপাতাঁবরোধী 'বাঁচন্র উপকরণে রাঁচত হয়েছে। দেবলোক মানবলোক এখানে একই সমাজভন্ত। 'বদ্রুপাত্মক রচনার এই পদ্ধাত অবশ্য নূতন নয়। 'দ্বজেন্দ্রলাল এই নাটকের ভূমিকায় অবশ্য এর কোঁফিয়ং "দিয়াছেন :

স্থানে স্থানে দেব-দেবী লইয়া একটু আধটু রহস্য আছে। তাহা ব্যঙ্গ কারবার আভপ্রায় নহে। গ্রল্থখানির দেখান উদ্দেশ্য, সমাজ-বিদ্রাট। তাহা দেখাইতে গেলেই দেবদেবী বিষয়ক একটু একটু কথার অবতারণা অপারহার্য। কারণ, হিন্দুসমাজ ধর্মের সাহত এত দৃঢ় সংশ্লিষ্ট যে, একের কথা বাঁলতে গেলে অন্যের কথা আনবার্যরূপে আসিয়া পড়ে। আর তাহা না হইলেও, বাঁজকমবাবু দীনবন্ধুবাবুর লেখনণপ্রসৃত দেবদেবীবিষষক রহস্যে যখন কাহাকেও কখন আপাতত কারতে শোনা যায় নাই এবং যখন “ছিঃ মা কালী তামাসাও বোঝ না” এরুপ রহস্য আবাল্র-বৃন্ধ-বাঁণতা সকলকেই উপভোগ কাঁরতে দেখা যায়, তখন দীনের দুই স্থলে আত সামান্য রহস্যগঃঠুলিতে কাহারও আপাতত 'প্রকাশ করা 'রাগের কথা ।, আত বিশুদ্ধ 'হন্দুও

জগন্মাতাকে "পাষাণ", শ্যামকে 'লম্পট' বলেন, অথচ পাও করেন। ইহার সাঁহত তুলনা কাঁরয়া পাঠক মহাশয় দেখবেন, নাটকের রহস্যগুল দি নিরীহ

এই কৌঁফয়ৎ ছাড়া নাট্যকার আরো বলেছেন যে, তান এখানে কোনো ব্যান্ত বা সম্প্রদায়কে আঘাত করেন নি-সমাজের সব্শ্রেণীর দোষব্রাটকেই তান উদ্ঘাঁটত করেছেন। লেখকের কোফয়ৎ মিথ্যা নয়। কারণ বিদ্রুপের তীব্রতা যতই থাক না কেন, বিদ্রুপের ক্ষেন্র প্রশস্ততর হওয়ার জন্য উপভোগ্য হয়েছে চরিন্রগাঁল পূর্ণতর নয় “স্কেচণ্ধমণ। রাজার কুলপুরোহত বিদ্যানীধর পাঁরকজ্পনাঁট সবচেয়ে সার্থক হয়েছে। এই “সুরাঁসক' পাঁণ্ডতাঁট সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

“কলিক-অবতার, প্রহসন হিসাবে উচ্চশ্রেণীর নয়। সংলাপ দুর্বল, চরিন্ও সব সময় আনবার্য নয়। 'দ্বজেন্দ্রলালের অন্যান্য প্রহসনের মত “কল্ক-অবতার”-এরও প্রধান এশবর্য এর হাঁসর গানগদীল। সংগঁতাংশ বাদ দিলে প্রহসনাঁট নিতান্ত বশেষত্ববার্জত। হাসির গান রচাঁয়তা দ্বজেন্দ্রলালেরই আর একাঁদক তাঁর প্রহসন। সংলাপধৈচিত্র্, চারন্র ঘটনার উদ্ভট সমাবেশ থেকে তাঁর হাস্যরস উদ্ভূত হয় নি-স্বতঃস্ফূর্ত হাসর গানই তাঁর প্রহসনগ্ীলতে প্রাসগ্টার করেছে। প্রথম আঁভনয়, "দ্বিতীয় আভনয়-_প্রকৃতপক্ষে দুটি অঙ্কের স্থান আঁধকার করেছে ।. আলেচ্য প্রহসনে সাঁত্যকারের কোনো আঁবাচ্ছন্ন কাহনী নেই। অবশ্য প্রহসনের কাহনশভাগ আঁকাংকরই হয়ে থাকে, 'কল্তু তার মধ্যেও একাঁট বাঁধন থাকা উীচত। 'কাঁজক-অবতার'কে কয়েকটি "বাচ্ছন্ন কৌতুকচিন্রের সমম্টি বলা যায়, শচন্রগীল ঘনবদ্ধ হয়ে একটি আঁববাচ্ছল্ন গাঁতবেগের সৃম্টি করোন। ফলে প্রহসনাটর গাঁতিবেগ (৪00০) মাঝে মাঝে আকাঁম্মকভাবে 'ছন্ন হয়েছে। সরব উচ্চকণ্ঠ হাঁসি খণ্ড-খণ্ড দৃশ্যের মধ্যে যে তরঙ্গের সৃন্টি করেছে তা বিচ্ছিন্ন চিত্র 'হসাবেই উপভোগ্য হয়েছে। সৃতরাং 'কাঁক-অবতার-কৈ পূর্ণাঙ্গ গু 'বাচ্ছত্ধ কতকগুলি প্রহসন না বলে কতকগুীল কৌতুকচিন্রের সমস্টি বলাই আঁধকগুব সঙ্গত। 'কার্-অবতার'-এর সর্বশেষ সমবেত সংগণতাঁটর মধ্য দিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালের জীবনদর্শনই উদঘাটিত হয়েছে :

বাইশ

ছেড়ে রেষারোষ কর মেশামেশি, ছেড়ে ঢাকাঢাকি কর মাখামাখি, আর সবাইকে বল “বাঃ, নইলে জীবনটা কছু নাঃ। 'কাঁজ্ক-অবতার' প্রহসনের আর একাট বৈশিষ্ট্য উল্লেখযোগ্য। প্রচালত 'বাধ আঁতক্রম করে ছন্দের ক্ষেত্রে যে আভনবত্ব তিনি আনতে চেয়োছলেন, তার সর্বপ্রথম প্রমাণ পাওয়া যায় “কাঁলক- অবতার, প্রহসনটির প্রস্তাবনায়। এখানে লেখকের বন্তব্য বন্তব্যের রীত দুই-ই লক্ষণীয় :

গদ্য কি পদ্য় আগে বেশ চোদ্দয়

চেনা যেত, কি প্রকাবে হোল আবার অদ্য 2 বোল্লকাম, বেয়াদাব, বেআকোল সদ্য এ;

“এখন পদের মান্াবোধ কি কানের উপর বিশ্বাস 2 হয়ত বলতে পারেন কেউ বা ফেলে দীর্ঘ নিশবাস। এর উত্তর “ছন্দ স্থানে স্থানে মন্দ

হোতে পারে, বিডি াভারিক রী থাকলেই বা একটুখানি বোল্পকামর গন্ধ।

লারা লা লে তারি জার এক আভনব কাব্যরীতি আ'বিন্কার করেছেন। পরবতর্ঁ কালের রচনায় এই রীতির পারিণত রূপ লক্ষ্য করা যায়।

[বিরহ (১৮১৯৭) : 'দবজেন্দ্রলালের দ্বিতীয় প্রহসন “বরহ”। এই প্রহসনাঁট উৎসর্গ করেছেন রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গপন্রে তিনি হাস্যরস প্রহসনের স্বরৃপধর্ম সম্পর্কে মূল্যবান আলোচনা করেছেন :

কাঁববর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মহোদয় করকমলেষু।

বন্ধৃবর !

আপানি আমার রহস্যগণীতির পক্ষপাতী তাই রহস্যগীতিপূর্ণ এই নাটিকাখাঁন আপনার করে আর্পতি হইল।

সব বিষয়ের দুট দিক আছে ।-_একাঁটি গম্ভীর, অপরটি লঘু বিরহেরও তাহা আছে। আপাঁন আপনার পূব্বিতর্ঁ কবিগণ 'বরহবেদনা্লূত বিরহের কবুণগাথা গাঁহয়াছেন। আঁম-“মন্দঃ কাবযশঃ প্রাথী” হইয়া বিরহের রহস্যের ঠদকটা জাগাইয়া তুলিবার চেস্টা কাঁরয়াছ মাত্। আপনাদের 'বরহ-বেদনাকে ব্যঙ্গ বা উপহাস করা আমাব উদ্দেশ্য নহে।

আমাদের দেশে এবং অন্যত্র অনেকে হাস্যরসের উদ্দীপনাকে অযথা ৮৯পলতা বিবেচনা করেন। পিল্তু তাহাতে বন্তব্য এই যে, হাস্য দুইপ্রকারে উৎপাদন করা যাইতে পারে। এক, সত্যকে প্রভূত পাঁরমাণে 'বকৃত কারয়া, আর এক, প্রকৃতিগত অসামঞ্জস্য বর্ণনা কারয়া। যেমন এক, কোন ছাঁবতে আঁঙ্কত ব্যান্তর নাঁসকা উল্টাইয়া আঁকা, আব এক, তাহাকে একট; আঁধকমান্রায দীর্ঘ করিয়া আঁকা। একটি অপ্রাকৃত-অপরাট প্রাকৃত বৈষম্য। স্নায়্‌ বিশেষেব উত্তেজনার দ্বারা হাস্যরসের সণ্টার করা চিমাঁট কাটিয়া কর্‌ণরসের উদ্দীপনা করা একই শ্রেণীর ! হাঃ হাঃ হাঃ বা মুখভঙ্গণ কাঁরয়া হাসানর নাম ভাঁড়াম, রা আন বারা তে তই কারুণ্যের উদ্রেক করার নাম ন্যাকামি। তাই বলিয়া রহস্যমা্ই ভাঁড়াম বা করুণ গান- মাত্রই ন্যাকাঁম নহে। স্থানাবশেষে উভয়ই উচ্চ সুকুমার কলার 'বাভন্ন অঙ্গমান্র। আমার এই গ্রন্থের

উদ্দেশ্-_অল্পায়তনের মধ্যে বরহের প্রকৃত হাস্যকর অংশটুকু দেখানো তাহাতে আপনার

আপনার ন্যায় সহদয় ব্যান্তর চক্ষে যৎসামান্য পরিমাণেও কৃতকার্য হইলে আমার শ্রম সফল

বিবেচনা করিব অলমাতিবস্তরেণ। শ্রীদ্বিজেন্দ্রলাল রায়

'কঞ্ফি-অবস্ধার' চিনীস্রার নানু রা রর রানি ন্রিী সা ০০৬৬ “বশদ্দ্ধ প্রহসন" এর মূল রস ীবদুপ (52016) নয়, কৌতুক (40) | আখ্যায়কাবন্যাসকে এখানে ঘোরালো জটিল করে তোলা হয়েছে মূল কাহনীর সঙ্গে একাঁট উপকাঁহনী যোগ করে

তেইশ

লেখক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে একটি জটিলাবর্তের সাঁন্ট করেছেন। প্রহ সনট হাস্যরস সংলাপ চারত্ত থেকে উৎসারিত হয় গন, ঘটনার ঘোরপ্যাচি উদ্ভটত্বই হাস্যরসের সাঁষ্ট করেছে। প্রৌঢু গোঁবন্দ “মুখোপাধ্যায় তাঁর তৃতীয় পক্ষের কুরৃপা স্ত্রী নর্মলার কৌতুককর দাম্পত্য কলহ দিয়ে কাহনীর সূত্রপাত করা হয়েছে। স্ত্রীর অনুপাঁস্থাতিতে বরহের জবালায় গোঁবন্দর খাওয়া বেড়ে গেল, ক্রমশ তান স্থুলকায় হতে লাগলেন। রূপসী শালকার জন্য ফটো তোলার আগ্রহের মধ্যে স্থলব্যাদ্ধ গোঁবন্দ-চারন্রের কৌতুককর অসং্গাঁত হাস্যরসের সাণ্ট করেছে। ইন্দুভূষণ চপলার ষড়্যল্্ই কাহিনীর মধ্যে গৃতিসণ্থার করেছে। ইন্দুভূষণ-প্রোরত ফটোতে নির্মলার চেয়ারের ঠক পিছনে তার ঘাড়ে হাত দিয়ে স্ত্রীর বন্ধু শরং হালদার-বেশী গোলাপশর ছাব গোঁবন্দকে সান্দগ্ধ করে তুলেছে। ভূত্য রামকান্তকে নিজের পুনার্ববাহের মিথ্যা খবর "দিয়ে গোবিন্দ সুকেশিলে কাজ হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু স্থুলব্দ্ধ রামকান্ত ভাগীরথীর ঘাটে গোলাপীর কাছে প্রণয়ানবেদন করতে গিয়ে মনিবের কৌশলের কথা সব বলে 'দয়েছে। গোলাপীর কাছে ,চপলা ব্যাপারটা জানতে পেরে, পৃরুষবেশ ধরে সে গোঁবন্দকে এমন করেই ঠাঁকয়েছে যে, এক প্রক্ল হাস্যাবেগের মধ্যে কাহিনীর মিলন-মধূর উপসংহার ঘটেছে।

নাট্যকার ভূমিকায় বলেছেন যে তান এখানে "বরহের হাস্যকর অংশটুকু" দেখাবেন। কিন্তু [তান তাঁর এই প্রাতশ্রুতি রক্ষা করতে পারেন নি। নাটকের প্রথম দিকে দ্‌-তিনাট দৃশ্যে [বিরহের হাস্যকর অসঙ্গাতর কথা থাকলেও সমগ্র প্রহসনের পক্ষে উন্ত অংশ নিতান্তই গৌণ হয়ে পড়েছে স্ত্রীচারত্র সম্পর্কে গোঁবন্দের মনে অমূলক সন্দেহ থেকে আরম্ভ করে হদয়নাথ 'চোৌধুরী-বেশে চপলার আঁবর্ভাব পর্যন্ত ঘটনার মধ্যে বিরহের কোনো হাস্যজনক অংশ দেখানো হয় নি। জাটল ঘটনাবৃত্ত রচনা করতেই প্রহসনরচয়িতার যেন সমস্ত শান্ত 'নঃশোষত হয়েছে__ তাঁর আসল উদ্দেশ্য চাপা পড়েছে দ্বিতীয়ত, রামকান্ত-গোলাপশর কাহনী প্রয়োজনাতারন্ত- রূপে প্রাধান্য লাভ করেছে, ফলে নাট্যকারের আসল উদ্দেশ্য অনেকখান চাপা পড়েছে। নাটাকারের আভপ্রায়কে গৌণ করে প্রহসনের শেষাঁদকে উপকাহনীর বোচন্রই ৰৃন্ট আকর্ষণ করে। এইদিক থেকে বিচার করলে শবরহ* নামকরণ -য্যান্তযুন্ত হয়েছে বলে মনে হয় না। গোলাপী চরিত্রাটর মধ্যেও অসঙ্গাত আছে-চাযার মেয়ে বলে তাকে চেনা যায় না। বোকায়িতে- চালাকতে মেশানো রামকান্তের চারন্রাট ভালো ফুটেছে প্রহসনাঁটর দশ্যসংস্থানের মধ্যে বোঁচন্রয আছে-কৃষ্নগরে গোঁবন্দের বাঁড়, হাঁসখাঁলতে চণর্ঁ নদীর একাট নিভৃত ঘাট, হুগলশীর একটি ঘাটের সমীপবতর্ঁ পানের দোকান, হুগলনীর নীলাম্বর চট্রোপাধ্যায়ের বাঁড়র অন্তঃপুর প্রভীতি চারাট দৃশ্যান্তর আছে। গ্লটকে জাঁটল করার জনাই দশ্যবৈচিন্রের অবতারণা করা হয়েছে। অন্তঃপ্ারকাদের তাস খেলা দশ্যাঁট সম্ভবত 'একেই কি বলে সভ্যতা'-র অনূর্প দৃশ্যটির কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রহসনটিতে গানগুলিই কৌতৃকরস জাঁমযে তুলেছে এস এস বধূ এস'"-র নার হার পারা সান রয়ে মানার রে রা ভিরাজে। শবরহ' প্রহসনাট 'রোমান্টক কমোড'র লক্ষণাক্লান্ত।

প্রায়শ্চিত্ত (১৯ জানয়ারি, ১৯০২) : 'প্রায়শ্ত্ত' 'বহ্‌ৎ আচ্ছা” নামে ক্লাসক থিয়েটারে আভনীত হয়। আলেচ্য প্রহসনাট সমাজাঁবদ্রুপমূলক। তিনি প্রহসনাটি উৎসর্গ করেছেন বাল্যবন্ধু যোগেশচন্দ্র চৌধুরীকে উৎসর্গপন্লে তিনি লিখেছেন : “বলাতফের্তা সমাজে যে অর্থলোলুপতা, কৃত্রমতা 'বলাসতা প্রবেশ কাঁরয়াছে_তাহা তোমাকে স্পর্শ করে নাই।” বিলাতফেরত সমাজের 'অর্থলোলুপতা, কীব্রমতা বিলাসতা'র চন্র আঁকাই প্রহসনাঁটর উদ্দেশ্য প্রহসনাটর মধ্যে তিনটি কাঁহনী গ্রাথত হয়েছে : সস্ত্রীক নব্যাহন্দুদের কাহনা,* ইন্দুমতী সরোঁজনী গিনোদাবহারীর কাহনশ চম্পট সাহেবের কাঁহনণী। ি্লাতফেরত ; সম্প্রদায়ের আচার আচরণের আ'তশয্য, নব্যাহন্দুদের স্ত্ীশক্ষা দেওয়ার উৎকট প্রচেষ্টা শাক্ষতা মাহলাদের ক্ষার নামে কৃশিক্ষাকে এখানে বাজ্গ করা হয়েছে।

চব্বিশ

বিলাতফেরত চম্পাঁট নব্যাহন্দদের উৎকট সাহোঁবয়ানার সঙ্গে ইন্দুমতীর 'ববাহ- ব্যাপারাঁটকে যুস্ত করে কাহনণীর মধ্যে জটিলতার স্াচ্ট করা হয়েছে। অর্থালপ্স;, হীনচারন্র ব্যর্থ ব্যারিস্টার চম্পাঁটকে ধনী বিধবা ইন্দুমতাঁর উৎকট রোমাল্পগ্রস্ততাকে সমভাবেই ব্যঙ্গ করা হয়েছে। 'বনোদাবহারী সরোজনীর ষড়্যল্লই চম্পট ইন্দুমতশকে শিক্ষা 'দয়াছে। একাঁদকে যেমন উগ্র সাহেবিয়ানার পাঁরণাম দেখানো হয়েছে, তেমান অন্যাদকে নব্যাহন্দদের তাঁদের স্ত্রীদের মতেরও পাঁরবর্তন ঘটেছে। শেষ দৃশ্যে দেখা যায় যে, চম্পাট একেবারে "খাঁটি গন্দূতে পাঁরণত হয়েছে-তার হাতে এক হশুকো। তকর্পণানন তাকে গোময় ভক্ষণ করে প্রায়শ্চিত্ত করার নিদেশ 'দচ্ছেন। নাটকের শেষাঁদকে পাঁরবার্তত চম্পাটর মুখ 'দয়ে লেখক বাঁলয়েছেন : “দেখাঁছ যে 'বালাঁত চালের চেয়ে বাঙ্গালীর পক্ষে দেশী চালই বহুৎ আচ্ছা বাঙ্গালীর বাও্গালীয়ানাই বহুৎ আচ্ছা ।” কন্তু চম্পাঁটর এই পাঁরবর্তনকে নিতান্ত আকাস্মক মনে হয়। দ্বিতীয় অগ্ক ষ্ঠ দৃশ্যে চম্পাট যখন ইন্দুমতাঁকে পাঁরত্যাগ করেছে, তখন তার কথার মধ্যে আর যে পারিচয়ই থাকুক না কেন, মনেপ্রাণে বাঙাল হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই দেখা যায় নি। চম্পাটর এই পাঁরবর্তনকে কার্যকারণসম্মত করে তুর্ললে উপসংহার আরো সঙ্গত হত। দ্বিতীয়ত, প্রেম বিবাহসম্পাঁকতি মাত্রাঁতীরন্ত রোমান্সকে কটাক্ষ করা হয়েছে। চম্পাঁট বলেছে : “আমি দু'বার বয়ে করোছ-_একবার প্রেমের জন্যে, আর একবার টাকার জন্যে,