7্িেস্ সজল

কাল নিরবধি, কিছুই দাড়িয়ে নেই, অভিব্ক্তির ইঙ্গিত সুম্পষ্ট। কিন্ত

দূরভবিষ্ততে আমি তো! তখন থাকব না_আরও কত নিত্যনৃতন ঘটনা

আকন্মিকের রথে উড়ে চলবে তাই শেষ কথাটির শেষ কোথায়, তা এখন কেমন করে বলি

3৭৩

রি 2 ছি ্‌

আসর ৯৯

স্ববৃতাধ মুখেখগীকটাও

অভিজিৎ প্রকাশনী গু কলিকাতা-১২

প্রথম প্রকাশ ১৩৬৪, আবাচন্ত প্রথম দ্বিবসে,

প্রকাশক অমরেজ্র দত্ত অভিজিত প্রকাশনী ৭২-১) কলেজ গ্রীট কলিকাতা-১২

ব্লক মুদ্রণ অজিতমোহন গুপ্ত

ভারত ফোটোটাইপ স্টডিও ৭২-১) কলেজ স্ট্রীট কলিকাত1-১২

বেঁধেছেন শ্রুরষ্ণ বাইত্ডিং ওয়ার্কস কলিকাতা-৯

প্রচ্ছদ অঙ্গ সজ্জ! প্রিভাপ দেব

গচ টাকা

মুর টরায়ণ

তমিক়া

', বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর থেকে নাঁনা ঘটনার সংঘাঁতে সব দেশেই মানুষের মন বিজ্ঞানের নানান ব্যাপারে কৌতৃহলী হয়ে উঠেছে।

এদেশেও মুখে মুখে চলেছে উড়োজাহাজের গল্প, পথে ঘাটে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে বিকিনিতে বোমা বিক্ষোরণের খবর, আণবিক শক্তিতে চালিত সাঁবমেরিণের ইতিবৃত্ত, এমন আরও কত- শত কথা। পৃথিবীর পরিধি যেন অনেক ছোট হয়ে গিয়েছে। আজ তার এককোণে নতুন কোন কল্পনা জেগে উঠলে তার ঢেউ অল্পদিনের মধ্যেই দেশ বিদেশে সব জাতির মধ্যে পৌছে যায়।...

শুধু স্বদেশী-মালমশলা এতিহা-সম্পদ নিয়ে কোন দেশের মানুষই আজ সন্তপ্ট থাকতে পারছে না। বিশ্বের রহস্য, .দেশ বিদেশের খবর, বিজ্ঞান ভাগ্ারের নবতম সঞ্চয়, এর সব কিছু জানবার জন্যে তার মন আজ উন্মুখ

চাহিদা মেটাতে গেলে বিজ্ঞানীকে লিখতে হবে সরল করে, সেই ভাষায় যা সাধারণে সহজে বুঝতে পারবে শ্রীমান শিবতোষ সতা নিধিড় ভাবে উপলব্ধি করে এগিয়ে এসে কলম ধরলেন। আশ্চর্য তার লেখার সারল্য, বলার মাধুষ আর ভাবের নতুনত্ব।

১৯৫৫ সালে প্রেসিডেন্সী কলেজের শতবাধ্বিকী বিজ্ঞান প্রদর্শনীর আয়োজনকে কেন্দ্র করে, এই ধরণের একখান! বই লেখার পরিকল্পনা তীর মনের মধ্যে জেগে উঠে। কোন কোন বন্ধু তাকে উৎসাহ দিয়েছেন, তার ফলে আজকে এই 'অণুর উত্তরায়ণ' লেখা সম্ভব হোলো

বাংল! দেশের শিক্ষা প্রসারের ইতিহাসের সঙ্গে ধার পরিচয় আছে, তিনিই জানেন, স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ই আমাদের দেশে বিজ্ঞান-শিক্ষার বুনিয়াদ পাকা করে প্রতিষ্ঠিত করে ছিলেন সারা দেশ তার কাছে চিরকাল খধণী থাকবে। তাঁরই সুযোগ্য পৌত্র আজ সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিক্ষি নিয়ে, স্টির উ্াকাল থেকে বর্তমানের মানুষ যে ধাপে গিয়ে পৌঁছেছে, তার সম পরিণতির বিরাট ইতিহাস এত অল্প কথায় অথচ সরস কনে সাধারণের জানবার জন্যে সার্থক ভাবে বলেছেন। 'অণুর উত্তরায়ণ? পাঠ করে লেখকের বিজ্ঞান পরিবেশনে যে শিল্প বুদ্ধির পরিচয় পেয়েছি 'তাতে আমার মন এক অনির্চচনীয় আনন্দে অভিভূত হয়েছে। ভরসা হয় দেশেও উৎকৃষ্ট বিজ্ঞান সাহিত্য গড়ে উঠবে।

নান! দিক দিয়ে বাংলার আজ বড়ই ছুরদিন। বাংল! ভাষাই বাঙালীর প্রাণ, তারই মধ্যে নিহিত আছে বাঙালীর এতিহা বাঙালীর চিরকালের মম্গদ। আশ! করছি শ্রীমান শিবতোষের এই পথ-নিরে্শি বাংলায় অভিনব উপায়ে বিজ্ঞান লেখার উৎসাহ- স্থল হবে। বিজ্ঞানীরা রিজ্ঞানের নানা খবর দেশের ভাষায় দেশবাসীকে এমন ভাবে গৌছে দেবেন ভবিস্তং বাজার সুদিন কাছে আনবার পক্ষে যা সাহায্য করবে।

এই পুস্তিকা সবার পড়ার মত, মবার ঘরে রাখার মত-_ এ-কথা বলতে আমার কোন দ্বিধ! নেই

৩০শে জ্যেষ্ঠ £ ১৩৬৪ গত্যেন্জনাথ বোস,

কানন

যেদিন এই পৃথিবীটা সৃষ্টি হোলে? তারপর যেদিন এই লেখাটি আমি লিখলুম__হয়তো এই বইটি আপনি পড়বেন ভেবে-__- এর মধ্যে কি ছস্তর সময় চলে গেছে, কত ঘটন। ঘটে গেছে, কতকিছুর আবির্ভাব-তিরোভাব হয়েছে আর কত কিছুর উত্ান-পতন হয়েছে, 'তার কুলকিনার! করা খুব সহজ নয়। এতো! একদিন ছুদিনের ব্যাপার নয়, একশো! ছুশো। বছরেরও নয়- কোটি কোটি বছরের সব কথা। এমনি বাইরের দ্রেখ দেখলে মনে হয়, এত সব ঘটনা নিজ, নিজভাবে স্বয়ং সম্পূর্ণ ; কারুর সঙ্গে কারুর কোন য়োগ নেই ; সব ইত্তস্ততঃ খগ্ডবিক্ষিপ্ত। কিন্তু ভিতরের দেখা দেখলে বোঝ! যায়, এই পুথিবীর বৈচিত্র্যের অপরিমেয় এশ্বর্ষের মধ্যে ছড়িয়ে আছে একট শাশ্বত মহিমা যার ইঙ্গিত পাই অভিব্যক্তির ব্যপ্রনায়, ক্রমবিকাশের পরিণতিতে, রূপান্তরের সমারোহে। বিশ্বের চিত্রকল্পরূপ, ঘটনার ফ্রেমে বিভিন্ন টটিল-ছবি নয়, সম্বন্ধপরতায় আবদ্ধ একখানি সিনে-ছবি। এত ব্যাপকতার মধ্যে সমগ্রতাকে অনুভব করা যায়, এবং সেইটেই বড় কথা। বহু আগে পরমাণুর আকাশ জুড়ে ছিল ছন্নছাড়া__তারপর তার! হাত ধরাধরি করে স্থষ্টি করল নানান রকমের অণু। পৃথিবী তৈরী হলো? ক্রমে প্রাণের আসর বসল, তাতে জীবের অভিব্যক্তি হলো, তারপরে এলে। মানুষ ; সুরু হোলো৷ বুদ্ধির জয়যাত্রা! | বিজ্ঞানের আসন পাতা হলে প্রাণ-নিশ্রাণ হ্যলোক-ভূলোক সম্বন্ধে ধারণা গেল বদলে, আজও মানুষের সাধনা চলেছে__তার অস্ত নেই

নিখিল ভুবনে নিরস্তর স্যগ্রির প্রাণসাগরে, ক্রমবিকাশে-উৎস্থক আমার মন-হংস, পশ্চাদপসরণ করে চলে গেছে কোন সে অতীতে; যেখানে সবের সুর কিন্তু বার আজও শেষ নেই, দেই সমস্ত কিছুকে ছয়ে ছু'য়ে ভেসে ভেসে কালের সাগর পাড়ি দিয়ে চলে এসেছে বর্তমানে নিশ্রাণ জড়রাজত্ব থেকে মানসিক পরিপূর্ণতার মাঝে।

মূলতঃ এটি অভিব্যক্তির" পথ পরিক্রমা__যেখানে অণুর উত্তরায়ণ হোলে চিরস্তন সত্য | |

লেখারও সামান্য ইতিহাস আছে-যেমন সব লেখারই থাকে ১৯৫৫ সালে, আমাদের প্রেসিডেন্পী কলেজের একশ বছর পূর্ণ হওয়ায় যে, উৎসব-আয়োজন করা হয়, তাতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ছিল বিজ্ঞান-প্রদর্শনী। এতে প্রাণিবিদ্ভার যে অংশটি ছিল, সেটি আমাকে পরিকল্পনা করতে হয়েছিল-_আামিবা থেকে আমের যুগ (আ্যামিবা টু আটমিক এজ )। প্রদর্শনী দেখার পর চেনা-অচেনা,অনেক বন্ধুর কাছে শুনতে পেয়েছিলুম, এটিকে ভাষায় সাজাতে পারলে আরও ভাল হয় কিন্ত সত যে এটিকে নিয়ে কখনও লিখতে বসতে হবে, সে কথা তখন ঘ্বণাক্ষরেও ভাবিনি এর ছুবছর পর, একদিন হঠাৎ, এই একই বিষয় নিয়ে কখন কেমন করে রাশীকৃত লেখা হয়ে গেল। কিন্ত লিখতে গিয়ে দেখি আমি যেন ছোট সাইজের এক বিশ্বপুরাণ লিখতে বসেছি ! সুবিধা হোলো, পাগুলিপির অংশ বিশেষ ব। সম্পূর্ণংশ অনেককে দেখিয়ে নিতে পেরেছি তারা হলেন ডঙ্টুর নীহাররঞ্জন রায়, অধ্যাপক নির্মল বোস, ডক্টর প্রতুল রক্ষিত, ডঙ্টুর শশাঙ্ক সরকার, ডক্টর সমর ঘোঁবাল, ডক্টর অজিত সাহা ডক্টর জ্ঞানেন্দ্রলাল ভাছুড়ী। আর শ্রদ্ধেয় শ্রীসত্যেন্রনাথ বোস ভূমিকা লিখে ওর কাছে কৃতজ্ঞ করে রাখলেন বলাবাহুল্য লেখার সার্থঘকতণ বেড়েছে সঙ্গেকার ছবিগুলির সহযোগিতায়_-কারণ একখানি ছবি বু কথা বলার সামিল। শিল্পী প্রতাপ দেব আমার মনের গভীরে যে সব টুকরো টুকরো অস্ফুট ভাবের ছায়া ছিল, তাঁদের তুলির আচড়ে চড়ে কায়ায় সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন

আমার লেখ রচিবাগীশ বা সিদ্ধকল্প বিজ্ঞানীদের জন্তে লেখা নয়। ধার! সাধারণভাবে পৃথিবী প্রাণ সম্বন্ধে কৌতুহলী, তাদের কাছেই আমার দরবার। বিশ্ববীণার তারে তারে আবহমানকাল' ধরে অণুপরমাণুর যে ছন্দ বেজে চলেছে, তার সামান্যতম অণুরণন যদি লেখা! পড়ে, কারুর মনে বেজে থাকে, জানব তাহলে লেখ। আমার সার্থক হয়েছে। "

কলিকাতা বিশ্ববি্যালয়ের শতবামিকীতে আমার ঠাকুরদার স্মরণে

এই লেখকের

* আসা যাওয়ার পথের ধারে

দুচীপত্র এই পৃথিবীর রঙমহলে

ডুপসীল উঠল, প্রায় ২৫০ কোটি বছর আগে-(১)) প্রথম অনৃষ্ঠ নট আরনটী, প্রায় ২০, কোটি বছর আগে--(৩)। অমেরুদ্তী প্রাণীদের রসরঙ্গ, প্রায় কোটি বছর আগে__(৬)) জলের বদলে স্থলে পালা বদল, গ্রায় ৩৫ কোটি বছর আগে--(১১); পৃথিবীর রণচণতী' মুততি, গ্রায়'১৮ কোটি বছর আগে-(১৪)) উ্শোণিতের নবীন অভিযান, প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে-(১৬); যার! গেয়ে গেল জীবনের জয়গান--(২*); নাটকের শেষ নেই--(২২) নতুন আগন্তক

ক্রমর্বিকাশের নবীনতম আগন্তক, মান্গুষ_(২৬); মানুষ গড়তে বীদর, কত রূপান্তরের পর্ব_-(২৮); দুপায়ে ভর করে আদি-মান্ুষ ঈাড়াল, গ্রায় লক্ষ বছর আগে--(৩২)) মানুষ হতে আর খুব বেশী বাকী নেই, প্রায় লক্ষ বছর আগে--(৩৬); আধুনিক মানুষ এলো, প্রায় ৭৫ হাজার বছর আগে--(৪০); মানুষ অদ্বিতীয়, কারণ ক্রমবিকাশের সে অধিনায়ক-__(৪8)

জানবার চাবিকাটি

পাথর দিয়ে ্থরু--(৫১); কৃষি-নির্ভরতায় নতুন করে বাচা--(৫৪)। পাথরের পর তামা, তারপর ব্রোঞ্-(৫৬); ত্রোঞ্জের পর লোহা, আর সেই থেকে লেখা-(৫৮); জ্ঞানের দরজায় একের পর এক করাঘাত-_ (৬০)) পিথাপোরীয় ভাববাদের প্রত্যুত্তর-- (৬৬); এখেন্স-এর শ্মরণীয়

' ধারা--(৬৮); আরিস্টটল-এর অবদান--(৬৯); আলেকজন্দ্রিয়া-য বিজ্ঞান অন্ুশীলন_-(৭০); ধর্মান্বতায় বিজ্ঞানের চাবি নিখোঁজ--(৭২); ভারতে জ্ঞান-প্রদীপের আলো--(৭৪);

. বৈনে্সীস মনের বদ্ধ দরজা খুলে: ধিল--(৭৮)) কালের অগ্রদূত 'লিআনার্দো দা ভিঞি_+৮১): আবিষার আর বিশ্ব, বিশ্বয় আর 'মাবিষ্কার_(৮৪); প্রথম বিজ্ঞানী গ্যালিলিও--(৮৮)) নতুন করে পৃথিবীকে চেনালেন নিউটন_-(৮৯)) দিকে দিকে বিজ্ঞানের বিস্তার__(৯০)। অধুবীক্ষণ আনল অনৃশ্ঠলোকের বিন্ময়__[৯৪)) ভারউইন দেখালেন, জীবনের ধর্ম ক্রমবিকাশ_-(১০০)1 বিজ্ঞান মাহ্ষের নতুন প্রেরণা--( ১৩) |

আযমের খেল!

আলপিন থেকে হিমালয়, সব কিছুই আটমের তৈরী--(১০৬)$ সবচেয়ে হালক] হাইড্রোজেন, সবচেয়ে ভারী ইউরেনিয়াম_€১৮)) আ্যাটমের জাতি-্র্ম গোত্র-বর্ণ+(১১০)); এক একটি আটম ইলেকট্রন-প্রোটন- নিউউউনের দানাদার-_ (১১৩); আযাটমের অন্দরমহলের বিভিন্নতা-_ (১১৬)। ছোট্ট আযটম ভাঙ্গবার সময় মন্ত দৈত্যের উদয়--(১১৬)) যার নাম বস্ত, তার নাম শক্তি (১২২) আমরা নিজেরাও জীবন্ত আটমের সমষ্টি-(১২৫)) প্রাপপাওয়া আটমের কেরামতি (১২৯) আযাটম-আযাটম-্খেলা, সবচেয়ে সাবেকী খেলা--(১৩২); আযটম দিয়ে, হয় ক্র্গের সাধন নয় শরীর পাতন-_(১৩৬)

শেষ কথাটির শেষ নেই

চতুর্দিকে বিজ্ঞানের কেরামতি--(১৪০)) জুতে। সেলাই থেকে চণ্তীপাঠ _ (১৪৪) থাস্তা খাজায় কিন্বা বাহারে চুল ছাটায়__(১৪৮); পটলের দোলমায় কিন্বা হাইড্রোজেন বোমায়-(১৫১); ঠাগ্ডায়-গরমে, বার্ধক্য যৌবনে-_(১৫২); এনসাইক্লোপিডিয়া থেকে এনটিসেপটিক--(১৫৬); না-দেখেও দেখা, নাশ্ুনেও শোনা_(১৫৯)) নকলও আসলের মামিল -(১৬২); মগজে আর কাগজে-(১৬৩)) বিজ্ঞানে বিষও আছে, অযুতও--(১৬৬)) বলিহারি ছুনিয়াদারি--(১৬৯)

ওগথধা; [18 বীর

ডগসীন উঠল প্রায় ২৫ কোটি বছর আগে

এমন রঙ্গ আর এমন মঞ্চ ছুনিয়ায় আর ছুটো নেই। মাত্র একখানি নাটক--তাও অসমাণ্ত--তবু তারই মধ্যে রয়েছে কি অফুরন্ত যাছুকরী! কোন বিস্মৃত কাল থেকে সুরু হয়েছে তার ঠিকানা নেই, কিন্ত আজও যে জম্জমাট ভাবে সবকিছু হয়ে চলেছে তার তুলনা মেলে না। নাটক কখনও পুরোনো হবার নয়_ধরণী এরই কোলাহলে নিত্য এত উতলা কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল যে মানুষের তৈরী রউমহলে কোন একটা রসঘন করুণ কাহিনী-হোক না কেন তা! সেক্সগীয়ার কালিদাসের কলমের অশচড়ে কিম্বা বার্ণার্ড শ'র টাইপ-রাইটারের ধাক্কায় প্রাণ পাওয়া_-তাও কখনো একটানা বেশীদিন মঞ্চ দখল করে থাকতে পারে না। দর্শকের বিশ্ময় বিমুগ্ধ মনকে আকৃষ্ট করবার জন্য চাই নিত্য নতুন রং আর রসের সন্ধান_-তাই বার বার এই পাল! বদলের প্রশ্ন। খাঁটা পুরোনো জিনিসকেও বেশ কিছুদিনের ছুটি দেওয়ার প্রয়োজন হয়, আবার তাকে নতুন করে ফিরে পাব বলে।

যে কোন নাটকের পক্ষে “একশো-রাত্রি অভিনয় হওয়া একটা দারুণ হৈ-চৈ-এর ব্যাপার তখন সভার আয়োজন করে অভিনেতা -অভিনেত্রীদের পুরস্কার বিতরণের প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু ধরণীর রঙমহলে যে অসম্পূর্ণ নাটকটি আজও অপ্রতিহত ভাবে চলে আসছে, একশে! রাত্রি ছেড়ে কোটি কোটি বছর পার হয়ে- তার“খবর আমরা কজন রাখি? অথচ সে নাটকে আমরা ন! জেনে সবাই এক-এক জন পাকাপোক্ত অভিনেতা এটা হল জীবন নিয়ে নাটক-খেলা। আর পৃথিবীটা হল তার :একটা বিরাট রিভলভিং স্টেজ__ কোন রুদ্ধ দরজার আড়ালে ছোট্ট প্রেক্ষা- গৃহের মত নয়, মহা শৃন্যে চন্দ্র সূর্ষের ফ্রলাডলাইটে উদ্ভাসিত। পৃথিবী তার সমস্ত স্থষ্টির বোঝ] সঙ্গে নিয়ে দিবা রাত্রিতে প্রত্যেক ঘণ্টায় ৭০,০০০ মাইল বেগে সৃর্ধের চারিদিকে ঘুরছে বিনা টিকিটের নাটক বলে এতে নামব না এমন কথ! বলার কারুর কোন অজুহাত নেই। যাঁর প্রীণ আছে সেই বাঁচতে চায়, আর সেই চাওয়াটাই হল জীবন-নাটকের সারাংশ। এতটুকু মিথ্যের স্থান নাটকে নেই। সবটুকুই সত্যি, তাই সবার হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশা, সব জড়িয়ে বাস্তবতার চূড়ান্ত পরিচয় এখানে পাওয়া যায়। পার্ট মুখস্তের ঝঞ্কাট নেই ; প্রম্পটিং-এর বালাই নেই ? জন্ম- মৃত্যুর আোতে প্রবহমান ; সুখ ছুঃখের তরঙ্গে বিক্ষিপ্ত যুগ থেকে যুগাস্তর, : ভূত-ভবিষ্যত-বর্তমান, সব কিছুকে মিলিয়ে নিয়ে অদ্ভুত উদ এর বিষয়বস্ত।

কবে, কখন, কোনদিন, ঘড়িতে তখন তিনটে কি ছটা, যখন এই জীবন-নাটকের ড্রপসীন উঠেছিল, সেকথা আজ কেউই বলতে পারবে না তার প্রধান কারণ ঘটনাটি যত যুগ আগে ঘটেছিল তত যুগ আগে আমরা কোন শর্মাই উপস্থিত ছিলুম না। বৈজ্ঞানিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে এখন অনুমান করা ছাড়া গত্যস্তর নেই।

্‌

একথা এখন মোটামুটি ভাবে স্বীকৃত হয়েছে যে প্রীয় ২৫, কোর্টি বছর আগে জীবনের রঙ্গমঞ্চে প্রথম যবনিকা ওঠে। কেন উঠল প্রশ্নের. সঠিক উত্তর দেওয়া শক্তু। কিন্ত তারপর, কত দৃশ্য' কত অঙ্ক চলে গেল, আরও কত বাকি, সে সব নিয়ে অনেক কথাই এখন বলা সম্ভব। সব কথ! খুলে বললে মনে হবে, প্রকৃতি হলেন যেন এই বিশ্বসংসারের সবচেয়ে বড় আর্ট-কনয়সর।

প্রথম অদৃশ্য নট আর নটা প্রায় ২০* কোটি বছর আগে এই জীবনের রিভলভিং স্টেজ যাঁকে বলছি, সেই পৃথিবী নিজেও ন্র্যের মাল মসলা দিয়েই তৈরী। এখানে জীবন তৈরী হবার বহু কোটি বছর আগে সর্ব প্রথমে কি করে স্টেজটি তৈরী হল, সে কথ' দিয়েই স্থরু করা চলে। একথা মোটামুটি ভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে যে একদিন আধদিন কি একবছর দুবছর নয়, পাচ-শো। কো-টি বছর আগে নাকি সৌর জগৎ বলতে কিছুই ছিল না। শুধু মহাশুন্তে অণু- পরমাণুর স্বচ্ছন্দে ঘুরে ঘুরে বেড়াত। তার অ-নে-ক পরে "অণু পরমাণুর! কাছাকাছি এসে মিলেমিশে নানান গ্রহ উপগ্রহ সব তৈরী করল। তাদের সংখ্যা এত, যে গুনে শেষ করা যায় না_ অসংখ্য তারা সূর্য নিজে তৈরী হবার পর নাকি কল্পনাতীত বেগে মহাশৃন্তে ঘুরে চলেছিল-উত্তপ্ত ঘনীভূত গ্যাসের এক সমষ্টি। তা থেকে পরে ঠিকরে বেরিয়ে আসে তারই সামান্য একটা অংশ _ আমাদের এই পৃথিবী। সেই সময় আরও কতকগুলো গ্রহ উপগ্রহের স্থ্টি হয়_যেমন টাদ। আমাদের দরকার কেবল এই পৃথিবীটাকে- সূর্য থেকে সদ্য বেরিয়ে আসার পর তখন তার অবস্থা দারুণ। সর্বত্র চলছে অগ্নিকাণ্_-একটা মস্ত গ্যাসের পিগু।

অনেক অনেক দিন তার ঠাণ্ডা হতে লাগল। কোটি কোটি বছর কেটে গেল- ক্রমে তা ঠাণ্ডা হয়ে জমাট বাধল-_তাঁতে নানান স্তর .পড়ল। পণ্ডিতের বলেন-প্রারস্তে সমুদ্র বলতে কিছু ছিল না, সাগরের জল তখনও আকাশে বাষ্প হয়ে ঘুরছে? পৃথিবী ঠাণ্ড। হলে অবিরল ধারা নামে, সে এত জল যে সাগর স্থষ্টি হল-_সে কি বৃষ্টি! আর এই জলের স্থত্র ধরেই যে জীবজগতের নানান প্রাণীর। এসে পরে রঙ্গ ব্যঙ্গ করবে-_-তখন তা কে জানত? আর এতদিন ধরে তা চলবে অথচ ফুরোবে না!

তখন স্টেজ তৈরী হল বটে কিন্তু অভিনয় করবার মত একজনও কেউ ধারে কাছে নেই-_চারিদিকে শুধু নিশ্প্াণ, নিস্পন্দ, জড় পদার্থের রাজত্ব এরই মাঝে অকস্মাৎ যা ন্বপ্নে কেউ কোনদিন ভাবেনি (অবশ্য তখন কেই বা ছিল যে ভাববে !) তাই সত্যি হল। জড়ের সেকি অবিশ্বাস্য পরিণাম ! ঘুমন্ত অণুপরমাণু হঠাৎ কেমন করে কাছাকাছি এসে জেগে উঠল--তারা পেল জীবন। এমনি ঘুম ভাঙানিয়া গান দিয়ে প্রায় ২৫০ কোটি বছর আগে ধরণীর রঙ্গমঞ্চে জীবন-নাটকের প্রথম প্রাণ তৈরীর পর্বটি ঘটে। একথা এখন নিঃসঙ্কৌোচে বলা চলে যে যখন জড়ের গায়ে জীবনের প্রথম পরশটি লাগে তখন পৃথিবীর অবস্থা নিশ্চয়ই আজকের মত এমনটি ছিল না। এমন একটা অকল্লিত শক্তির শিহরণ এই পৃথিবীর বুকের উপর এসে পড়ে যার তাড়নায় নিজীবেরও জীবন্ত হয়ে ওঠা সম্ভব হয়। কেউ বলেন- আকাশের বিছ্যৎ এসে বলে গেছে জেগে ওঠার কথ। ; আবার কেউ বলেন- আকাশ থেকে তা আসতে যাবে কেন? পৃথিবী থেকেই ছাড়া পাওয়া সে কোন সৌর-বিকিরণ হবে। কবে হয়েছিল সে জটিল প্রসঙ্গ না হয় এখন বাদই দিলুম ; তারচেয়ে দেখা যাক তার ফল কি হল। প্রাণ আর নিল্প্রাণের

মধ্যে যতখানি প্রভেদ ঘটনার আগে আর পরেও ঠিক ততখানি | দিগস্ত-বিস্তৃত পৃথিবী, তাতে এক কণাও প্রাণ-পদার্থ নেই, কিঞ্তু কেমন একটা অভূতপূর্ব শক্তির সধশলনের ফলে কতকগুলি নিজৰ পরমাণু কাছাকাছি এসে প্রাণবন্ত হয়ে উঠল। নিজেরা” জড় ছিল, কিন্তু বজ্র-ঝলকে তারা এমন একটা সমাবেশ স্থপতি করল-_যে সমাবেশের গুণই প্রাণ-চাঁঞ্চল্য সেই চাঞ্চল্যকেই আমরা বলছি জঙ্গম-জীবন। যদ্দি কেউ স্থৃবিধার জন্তে মনে ভাবেন ঘটনাটি কয়েক বস্তা রকমফের জিনিসের ভিতর তড়িৎ প্রবাহ চালিয়ে চালে ডালে মিশিয়ে দেওয়ার মত কিছু-_ত কিন্তু মোটেই নয়। ঘটনাটি এত স্ুল্ম বলেই বোধহয় এত রহস্তাত্বক। সমস্ত ব্যাপারটাই অদৃশ্যলোকের কা'রবার--তাই এই সব জীবন্ত প্রাণকণাগুলো খালি চোখে দৃষ্টিগোচর হওয়া সম্ভব নয়। এরা অতি সুক্ষ দেহধারী জীব। এই প্রাণকণ! বা প্রোটোপ্লাজমএর টুকরোগুলোই সর্বপ্রথম জীবনের রঙ্গমঞ্চে ছ্যতি ছড়িয়ে নট আর নটার কাজ করে সম্মান পায়। সমস্ত সৃষ্টির মূল এরা সম্ভবতঃ ২৪০ কোটি বা তারও বেশী বছর আগে পৃথিবীতে এদের প্রথম উদয় হয়। জীবিত বলেই এত ছোট হয়েও তাঁর দরকারে আধখানা হয়ে নিজেদের মত আরও ছূটো প্রাণ-প্রতীক তৈরী করতে সক্ষম। এই ক্ষুদ্রাদপিক্ষুত্র প্রোটোপ্লাজম- এর টুকরোগুলোকে বলা হয় ভাইরাস। এমনি চোখে কেন, সাধারণ অণুবীক্ষণের সাহায্যেও এদের দেখা যায় না। এদের দেখতে ইলেকট্রন মাইক্রোস্ষোপের মত শক্তিশালী যন্ত্রের প্রয়োজন। ভাইরাসের নিজের দেহটি বলতে এখন আমরা বুঝি কতকগুলি অদৃশ্য প্রোটিন-অণুর সমষ্টি। এর! নানারকমের হওয়া বিচিত্র কিছু নয় আর সংখ্যায় এরা অগুণতি, অজভ্র। জীবকোষ বলতে এদের কোন কিছু নেই আছে শুধু কয়েক টুকরে। প্রোটিনের সার বস্ত। তাই যথেষ্ট-_বেঁচে থাকবার পক্ষে অসম্ভব নয়। ভাইরাস

খুব ছোট্ট কিন্ত, ব্যাকটিরিয়া ভাইরাসের পরৈর-প্তর পরিমাপে ধেশ বড়। 'এদের চেহার! অণুবীক্ষণের সাহায্যে স্পষ্ট করে দেখ! যার-_এরা স্ব জীবাণুর দল। নানারকমেরও হতে পারে। একখানা

ভেঙ্গে ছখানা_ ছুখান। ভেঙ্গে চারখানা-এমনি করে অতি সহজে এর্দের সংখ্যা লক্ষ লক্ষ হয়ে যেতে পারে নিষ্প্রাণ পরমাণুর টুকরোর আপন। আপনি কিছু করবার ক্ষমতা নেই-_কিন্ত প্রাণবস্ত পরমাণুর টুকরোর ? তা জীবিতাংশ বলে অনেক কিছু করবার চাধল্য রাখে। একে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে রসদ জোগাতে হয় 'এবং প্রয়োজন হলে ভেঙ্গে তার নিজের মত আরও কণ। তৈরী করে বংশরক্ষা করতে সক্ষম। জীবনের রঙ্গম্ধে এই' সব প্রাণকণাগুলে! অপৃশ্য নট আর নটার বেশে কাজ করে চলেছে কোটি কোটি বছর ধরে। এদের সন্ধান আজও পাওয়া যায়। এদের জন্যই আমাদের অনেক হাঙ্গামা পৌয়াতে হয়--ভাইরাস থেকে আসে হাম, ইনফুয়েঞরা, পোলিওমাইলাইটিস্‌, পান-বসম্ত, আর ব্যাকটিরিয়া থেকে যল্ষ্া, কলের প্রভৃতি রোগ। মানুষের সমাজে আজও এদের বাস। ভাইরাসর1! কিন্তু আবার ব্যাকটিরিয়ার শক্র হিসাবেও তাদের সর্বনাশ করতে পারে

অমেরুদণ্তী প্রাণীদের রসরঙ্গ প্রায় ৯* কোটি বছর আগে

স্থষ্টি হল; কিন্তু সময় ছাড়িয়ে নেই--সমানে এগিয়ে চলেছে জীবন-নাটকেরও নেই সঙ্গে নতুন নতুন দৃশ্যপটের পরিবর্তন হয়ে চলল। এই সময়েরই মাপকাঠি দিয়ে জীবন নাটকটাকে পাঁচটা পর্যায়ে ভাগ কর! যায়-_ ১। প্রায় ২৫* কোটি বর আগে প্রীরস্ভিক- জীবন; ২। প্রায় ৯, কোটি বছর আগে আদি-জীবন ; ৩। প্রায়

জীবনের গাত্রপত্রিক! __ বছরের পিঠে চড়ে কত এলে। আর কত গেল, কিছু বা রইল; কোটি কোটি বছরেও যাছুকরণ অফুরস্ত

৫৫ কোটি বছর আগে প্রাচীন-জীবম ; ৪। প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে মধ্য-জীবন ; ৫। প্রায় ৬'কোটি বছর আগে নবীন-জীবনএ প্রারস্তিক পর্যায় থেকে জীবনের আদি পর্যায়ে এসে নাটকের মোড় ঘুর . আগে. শুধু ছিল ব্যাকটিরিয়ার. মত জীবাণু। পরে নতুন দৃষ্টে নতুন নতুন আগন্তকের আবির্ভাব ঘটল | অনুমান প্রায় ১০০ বা ৯০ কোটি বছর আগে ব্যাকটিরিয়া এক্বকে ক্রমে একইানি সেল বিশিষ্ট প্রাণীর উদয় হয়। এরা হল, 'আ্যামিবার দল। এদের আবির্ভাব জীবন-নাটকে নতুন রোমাঞ্চকর আবহাওয়া! আনল। শুধু যে এরা আয়তনে ব্যাকটিরিয়ার চেয়ে বড় তাই নয়__-এদের জীবনধারণ প্রণালীতেও নতুন ইঙ্গিত দেখতে পাওয়া গেল। আগে কোনপ্রকার জীবকোষ বলতে কিছু ছিল না-এখন জীবকোবধুক্ত প্রাণী তৈরী হল। একখানি জীবকোষ, কিন্তু হেন কাজ নেই যা আযমিব! করে না। জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ-_ খাওয়া-দাওয়া, শ্বাস- প্রশ্বাস নেওয়া, আত্মরক্ষা প্রজনন-_যাঁবতীয় সব কিছু কাঁজ। দেখতে একটুখানি জেলির মত, নিজের শরীরের নির্দিষ্ট কোন চেহারা নেই_-সব সময়ে প্রাণ স্পন্দনে টলমল করছে। সাধারণতঃ ব্যাকটিরিয়৷ শিকার করে এর বেঁচে থাকে দরকার হলেই আ্যামিব! নিজের শরীরের কোষখানার ভেতরের প্রাণকেন্দ্রটি (নিউক্লিয়াস) সুদ্ধ ভেঙ্গে ছুখান! হয়ে যেতে পারে। তারপর ছুটো টুকরো! ছুমুখে চলে যায়__কেউ কারে! ধার ধারে না__ছুজনেই তারপর থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ এই হল এদের সংখ্যা বৃদ্ধির সহজ উপায়। এদের আত্মরক্ষার প্রথা হল জীবকোষের চারিদিকে একরকমের প্রোটোপ্লাজমের বর্ম তৈরী করে চুপটি মেরে বসে থাকা অ-নে-ক অ-নে-ক দিন কিছু না খেয়ে তারা এমনি করে বেঁচে থাকতে পারে। তারপর আবার চারিদিকের অবস্থা অনুকূল হলে সেই বর্মের আবরণ ভেঙ্গে আযামিবা টলটলে চেহার। নিয়ে বার হয়ে আসে। নিজেদের এই সব

|

২৮ ১১ কল 2০ .. $ ০৩2 হে

ব্যাকটিরিয়৷ সির শুরু থেকে অনৃশ্ঠ নট আর নটার বেশে আজও প্রাণের আসর জাকিয়ে রেখেছে

আযামিবা এমনি বাহাছুর যে ২০০ কোটি বছরেও তার কিছু হয়নি এখনও প্রাণ-চঞ্চল

বাহাছুরী দেখিয়ে আযমিবা তাদের সমগ্রোষ্ঠীর সব এককোধী প্রাণীরা জীবনের আদি পর্বে অদ্ভুত সব খেল দেখিয়েছে। তখন অন্ত কোন বড় প্রাণী আত্মপ্রকাশ করেনি। সেই কোন অতীত কাল থেকে আযমিবা আজও বেঁচে আছে। ১০০ কোটি বছর হুল, তবু এদের ঘরানা বিসর্জন দিতে হয় নি।: জীবনের সামান্য এই পরিধি নিয়ে এর! কালের সংগে পাল্লা! দিয়ে দিব্যি এখনও বর্তমান।

এর পর দেখা যায় 'স্পঞ্জ জাতীয় বহুকোধী জীবেরা আসর জমিয়েছে। এখন আর মাত্র একট সেলে দিয়ে এদের দেহ তৈরী নয়__নানারকমের জীবকোষের ভীড়। অবশ্য এদের চেহারা দেখে আহা মরি করার কিছু নেই। না আছে হাত, পা, মাথা; আর না আছে নাক, কান, চোখ এদের দেহ শুধু কতক- গুলে জীবকোষের সমন্বয়। যেন শুধু দল পাকান--সব কটা কোষই ভিতরে ভিতরে নিজেরা নিজের মত। কেউ কারুর পরোয়া! করে না-_কাঁছাকাছি এক সঙ্গে থাকে এই যাঁ। তবু এরা গোষ্টি- ভাবাপন্ন_-এই টুকুই যা আযামিবার সঙ্গে মূলতঃ প্রভেদ। আযামিবা “সোলো? গান করত -__এর! গল! মিলিয়ে জীবনের “কোরাস' গাইতে যেন বেশী উদ্গ্রীব_ ক্রমবিকাশের এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষণ। এদের স্বভাব কিন্তু অচরিঞু-_এক জায়গায় আকড়ে বসে থাকে

কিন্ত জীবন-নাটক মাত্র এইটুকু দেখিয়েই শেষ হয়ে যাবার নয়। প্রাণ-বিন্যাসের নতুন চাতুর্ষ দেখতে পাওয়া গেল নানান অমেরুদণ্তী প্রাণীদের জীবন-রঙ্গমঞ্চে প্রবেশের সঙ্গে সে এই সব বহু-কোষী প্রাণীদের জীবকোষবৈশিষ্ট্য আরও বেশী করে ক্রমে ফুটে উঠল। এদের খাওয়া-দাওয়া, নিঃশ্বাস-প্রশ্বীস, চলাফেরা, রক্তচলাচল প্রজনন ব্যবস্থার জন্যে বিশেষ বিশেষ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দেখা মিলল এক কথায় বল! চলে নিজেদের দৈহিক গঠনের জটিলতা! এতই

৭০

প্রকাশ পেল. যাতে এরা স্তীবন রঙ্গমঞ্চে বেঁচে থাকার.ব্যাঁপারে আগেকার প্রাণীদের অপেক্ষা অনেক “স্টেজ ফ্রি হল। জোক, কেঁচো আর তাদের অসংখ্য খুড়তৃতো-পিসতুতো ভাইর এই দলে। কোথায় স্থষ্টির উবাকাঁলে একখানি কোষ দিয়ে যাত্রার সুরু, এখন শরীরের ভিতরে অগ্চনতি জীবকোষ দেখ! দিয়েছে; তারা প্রাণ-ধারণের অনিবার্ধ কাজগুলোর সব সুরাহা করবার জন্য বন্ধ- পরিকর। জীবনের রঙ্গমঞ্চে এমনি নতুন' বাহার দেখিয়ে একের পর এক সব অমেরুদণ্তী প্রাণীর।.এলো__চিংড়ীদের সমগোত্রীয় জীবর' তার পরে বিবন্তিত হল। স্থষ্টির সুর থেকে ক্রমে ক্রমে জীবনের অসাধারণ বিস্তার ঘটে। নান! রকমের চিংডী পর্যায়ের প্রাণী__ কুচো, মোচা, বাগদা আর কাকড়া, বিছে পৌকাঁ-মাকড় সবাই' সমুদ্রের নীচে জীবনের জলসায় ভিড় বাঁড়াল।

জলের বদলে স্থলে পালা বদল প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগে

জীবনের যত কিছু লাস্ত-লীল। এতদিন চলছিল জলের মধ্যে। ডাঙ্গায় তখনও কোন জীবের প্রসার লাভ হয়নি__জলের মধ্যেই যত কেলী। আজ থেকে প্রায় ৩৫৩৬ কোটি বছর আগেকার কথ। তখন সমুদ্রের নীচেকার রঙ্গপট গিজ গিজ করছে-__নানান রকম খুদে-বড় অভিনেতা অভিনেত্রীদের সমাগমে ভিড় বাচিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনকে নুপ্রতিষ্ঠিত করার আশায় নতুন ভাগ্যের অন্বেষণ স্বাভাবিক। যেন অনেকের কলকাতা থেকে বন্ধে চলে যাওয়ার মতন-_জল ছেড়ে ভাঙ্গায় ওঠার লক্ষণ এই সময়ে দেখতে পাওয়া গেল। সত্যি, জলে এতদিন য1 সম্ভব হয়নি ডাঙ্গায় এমে তাই হল, এদের কারুর কারুর বরাত গেল খুলে। রাপ-ঠাকুরদার সাতপুরুষের আবাস হল জল-_ সেটি ছেড়ে বেরিয়ে আসা চাট্রিখানি ব্যাপার নয়। তবু অমেরুদণ্ডী

১৯

প্রার্থীদের, মধ্যে যার! সর্বপ্রথম জল. থেকে উঠে এল, তারা হুল বড় বড় সাইজের সামুদ্রিক বিছে-_-এক একটার সাইজ প্রায় ৮৯ ফিটেরও মতন ছিল।

একদিকে যেমন কোটি কোটি বছর ধরে নানান অমেরুদণ্ডী প্রাণীর হ্ৃষ্টি প্রকাশ হয় তার পাশাপাশি তেমনি চলে মেরুদণ্ডী-প্রাণীর নানান উদ্ভাবন-চর্চ1। একথা সত্যি ষে ছুস্তর সময় অতিক্রম করে অমেরুদণ্তী প্রাণী থেকেই মেরুদণ্ডী প্রাণীর উদ্ভব অনুমান প্রায় ৫* কোটি বছর আগে জীবন-নাটকে এক রকম বিশেষ ধরণের জীবের উৎপত্তি যারা অমেরুদণ্ডী প্রাণীর রাস্ত। ছেড়ে স্থপ্টির আন্ুকুল্যে নতুন পথে অগ্রসর হল। এদের শরীরের ভিতর শিরফাড়ার মত একটা মজবুত কাঠামোর আভাসও স্পষ্ট যার ফলে নিজের দেহটা এর! বেশ খজু করে রাখতে পারে। এইসব প্রাচীন পর্যায়ের মেরুদণ্ড-হয়-হয় প্রাণীদের ভিতর থেকে পূর্ণাঙ্গ মেরুদণ্তী প্রাণী প্রকাশ পায় প্রায় ৪৫ কোটি বছর আগে। মাছকেই সাধারণভাবে সাচ্চা মেরুদণ্তী বলে ধরা হয়। একটু আগে যে কথা বলা হল, সমুদ্রের নীচের জনাকীর্ণ রঙমঞ্চ ছেড়ে ডাঙ্গায় উঠে এসেছিল যেমন কতকগুল। অমেরুদণ্ডী ঠিক তেমনি মেরুদণ্ডী মাছদের মধ্যে কেউ কেউ জলের মায়। কাটিয়ে স্থলে উঠে এল; বাইরে এসে নতুন উপনিবেশ স্থাপন করবে- মুক্তির নিঃশ্বাস ফেলবে সেই চেষ্টায়। এই নিঃশ্বাসের ব্যবস্থার জন্যই এদের দেহের আমূল পরিবর্তন করার প্রয়োজন হল। মাছ জল থেকে উঠে এলে আর মাছ থাকল না_-হল ব্যাড জীবন-নাটকে সেই থেকে ব্যাঙ পর্বের স্ুরু__ডাঙ্গায় তখন রব উঠেছে ব্যাঙ ব্যাঙ ঘ্যানোর ঘযাং। শ্বাস যন্ত্রের জন্য আর ফুলকোর প্রয়োজন হল না_তার বদলে এলো! ফুসফুস, যার ভেতর শুকৃনো বাতাসের অক্সিজেন সহজে প্রবেশ করতে পারে। মাছের জলে গোলা

১২

ট্রাইলোবাইট প্রাচীন-জীবনের রঙ্গমঞ্চে অমেক্ুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে অন্তম- এর ২০ কোটি বছর আগেকার ফসিল অনেক অন্ধকার ঘুচিয়েছে

লিমূলাস-এর সহকর্মীরা জীবনের স্টেজ ছেড়ে কোন্‌ কালে বিদায় নিয়েছে__ তবু নিজে হার মানেনি, এখনও একলা গায়েন

১৩

অক্সিজেন ফুলকোর সাহায্যে ব্যবহার করে কিন্তু এই সাবেকি প্রথার উপর ব্যাঞ্ডর! ক্রমবিকাশের পণ্ে তাদের উপর এক হাত টে দিলে কেবল প্রজননের সময় ব্যাঙদের একবার করে জলে আসার প্রয়োজন রয়ে গেল। বাকী সময়ে তাঁরা ভাঙ্গারই বাসিন্দে। কিন্তু কোনও পর্বের মত ব্যাঙ পর্বও চিরস্থায়ী হল না। কারণ ব্যাঙ পর্বের শেষাশেষি প্রকৃতিতে ছুবিপাঁক দেখ] দেয়। ব্যাঙ জাতীয় প্রাণীর! ডাঙ্গায় বিপদ দ্রেখে প্রাণভয়ে আবার জলে নেবে পড়ার ভ্রান্ত চেষ্টা করল। এই সময় আগ্নেয় উৎপাত হয়। পাহাড় পর্বত মাথা উচু করে ওঠে ফলে না ভাঙ্গায় না জলে এই মাঝামাঝি অবস্থায় পড়ে, অনেক ব্যাঙ জাতীয় প্রাণীর! প্রাণ হারাল; সেই সঙ্গে ব্যাঙ পর্ধের অবসান হয়- প্রায় ২১ কোটি বছর আগে।

পৃথিবীর রণচণ্তী মৃতি প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে

. ব্যাঙ পর্বের ইতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জীবনের প্রাচীন পর্যায়েরও অবসান হয়। এর পর থেকে যে নতুন পর্বের স্ৃচন। হল, তাকে বলা হয় জীবনের মধ্যপর্যায়। আজ থেকে প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে সুরু হওয়া, এই নতুন পর্বকে সাধারণতঃ বল! হয় সরীন্থপ যুগ। আনুমানিক প্রায় 'ফোটি বছর ধরে এই যুগটি চলে। ' এই দৃশ্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটন! হল সরীস্থপদের চেহারার দাপট এক একটি: প্রাণীর কলেবর ভোজ- পুরীকেও ছাপিয়ে গেল। পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে এমন বিরাটাকার বপ্পু আর অন্ত কোন প্রাণীর কখনও হয়নি। এই সব বড় বড় সরীস্থপদের নাম দেওয়া হয়েছে ডাইনোসোর। ছু জাতের ডাইনোসোর দেখা দিল। একদল শাকপাতা-খাওয়া অন্যেরা মাংসাশী। বিরাট বপু নিয়ে তারা মহা! উল্লাসে পৃথিবী কাপিয়ে ঘুরে বেড়াত- সবচেয়ে বড়

১৪

ডাইনোসোররা চেহারায় ছিল ,৭* ফিট লঙ্কা, কেউ বা আবার ৫০. ফিট। এদের হিংস্রতা সর্বজনবিদিত প্রায়ই নিজেদের মধ্যে খণডযুদধ বাধাত। ীতগুলো ছিল জল্লাদের ধারাল . অস্ত্রের মত। একবার তের 'খপ্পরে পড়লে পঞ্চত্ব প্রাপ্তি অনিবার্ধ। নীল আকাশের নীচে প্রায়ই এর! রক্তগ্গজ। বইয়ে দিত- অন্য প্রাণীরা প্রাণভয়ে সর্বদা তটস্থ। এই সব ভয়ানক ভয়ানক সরীস্থপ ছাড়াও অন্য ছোট বড় নানারকমের সরীস্থপের উৎপত্তি তখনই হয়। এতদিন পৃথিবীতে সাপ বলে কিছু ছিল না__সরীস্থপ যুগের স্চনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সাপের উদ্ভব হয়। তখনও সাপের ওঝা জন্মায়নি কিস্তু। কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটিরা এসে গেছে কিন্ত আসলে তখন ডাইনোসোরদেরই প্রাধান্য

পৃথিবী এদিকে রণচণ্ডী মূর্তি ধারণ করছে। জরীস্থপ যুগও বেশীদিন চলল না। জীবন-নাটকের দৃশ্যে একটা বিরাট রকম পট পরিবর্তনের সুচনা হল। পৃথিবীর বুক ফেটে পাহাড়গুলে! এই সময় বাইরে উচু হয়ে উঠতে লাগল-_কখনও চলল আগ্নেয় বিস্ফোরণের বাহার, কখনও বা তুষারবঞ্কার অজভ্রতা। ভূগর্ভের আলোড়ন পৃথিবী কাপাল, বিরাট সরী্থপদেরও হল পতন। সরীস্থপ মাত্রেই নিজের দেহের তাঁপ নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম দারুণ ঠাণ্ডায় ডাইনোসোররা হিম হয়ে যায়। শীতে কন্বল না পেয়ে যেন ঠক্‌ ঠক করে কেঁপে কেঁপে একেবারে ঠাণ্ডা ক্রমে ওদের সব শয়তানী জব্দ। ভাগ্যি কোটি কোটি বছর কেটে গেছে_নইলে আজও যদি ওর! বেঁচে থাকত? কলকাতার রাস্তায় কখন আচমকা হাজির হয়ে দৌতলাবাসের উপর থেকে ইচ্ছে করলেই টপ করে কাউকে তুলে. নিয়ে ভে দৌড-_কিম্বা গড়ের মাঠের মন্তুমেট্টের গায়ে পিঠ চুলকোতে চুলকোতে তা৷ ভেঙ্গে ফেলতে পারত। রক্ষে, তার সব গেছে; কিন্তু ছোটখাট অনেক সরীস্থপরা আজও বেঁচে

১৫

আছে। মাঝে সাঝে তারা কেউ কেউ আমাদের চোখে ধর! পড়ে ষ্বায়।

উষ্ণ-শোঁণিতের নবীন অভিযান প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে

সরীশ্থপদের যে কারণে পতন ঘটল-_সেই কারণের পাণ্টা জবাব দেওয়ার মত সামর্থ্য সেই আমলের কতকগুলো একেবারে নগণ্য সরীস্থপদের মধ্যেই নিহিত ছিল। ডাইনোসোরদের ভয়াল কালে! ছায়ার নীচে নাম-না-জানা, মুখ-নীচু-করে থাকা, এই সব মিনমিনে সরীশ্থপদের ভিতরই উত্তর পর্বের “হীরো” হবার সম্ভাবনা লুকান ছিল-_একথা প্রথমে বোঝাই যায়নি। এর! অসম্ভবকে সম্ভব করে তুললে সরীস্থপদের চেহারাখাঁনা বড় এবং বীভৎস হলেও এদের বুকের রক্ত চিরকাল ঠাগডা-জল। প্রকৃতির খেয়াল খুশিতে ঠাণ্ডা গরম রকমফের হলেই এদের শরীরের তাপ ওঠানামা করে। নিজেদের তাপ নিয়ন্্ননণ করবার কৌশল এদের আজও অজানা তাই বেজায় ঠাণ্ডায়, দেখতে অতিকায় প্রাণী হলেও এরা নেহাঁৎ অকর্মণা হয়ে পড়ে। কিন্তু একরকমের সরীল্ুপের কথা বল! হচ্ছে যাদের দেহের মধ্যে তাপ- নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা ক্রমে ক্রমে স্পষ্ট হয়ে দেখা দিল। এরাই প্রথম উষ্-শোণিত বিশিষ্ট প্রাণী। এই একটি কারণের সাফল্যই ক্রমবিকাশের পক্ষে অশেষ সুবিধা নিয়ে এল- প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে জীবের ধমনীতে প্রথম উষ্ণ-শোণিত নাকি প্রবাহিত হয়। এই আধা-সরীশ্থপ আধা-স্তম্তপায়ী জীবদের বিজ্ঞানীর! নাম দিয়েছেন -খিরিওডনসিয়। তারপর উষ্-শোণিতের অভিযান ছুদিকে ব্যাপ্ত হয়ে পড়ল- একদিকে স্তন্যপায়ী, অন্যদিকে পাখী পর্যায় শ্রেণীর ভিতরে এক স্তন্তপায়ী আর এক পাখা

১৬

প্রায় কোটি বছরে ধাপের পর ধাঁপ বদলে মাছ হল পাখী--তারই নান! রূপান্তরের সাক্ষী

ছাড়া .এ ছুনিয়ায় আর. কোন প্রানীর শোণিতে উষ্ণতা নেই__. নিস তাপ নিয়ন্ত্রণ করার, কৌশল। তাই সরীস্থপদের পর স্তম্তপায়ী আর পাখী জীবনের ' রঙ্গমঞ্চে, সের -শিল্পী হিসাবে পরিগণিত হল। এদের রকমারি পাত্র পাত্রীর কোলাহলে পৃথিবী মুখরিত হয়ে উঠল. স্তম্যপায়ীদের মানান মহিম! ক্রমে ক্রমে ফুটে উঠল- সাজগোজ করতে গায়ের লোম হুল এদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ; আর মাতৃত্সেহের প্রতীক. হল স্তন-যা থেকে এদের নাম। মাতৃন্সেহে ধন্য বলেই এর! স্তন্যপায়ী ।. সাফল্যের দরজা যখন এদের জন্তে খুলে গেছে তখন স্তশ্যপায়ী পর্যায়ের অনেকে নানাভাবে রঙ্গমঞ্চ জাকিয়ে বসল। যেমন বাঘ, ভাল্পুক, গণ্ডার, হাতী, উট--এইসব। এরা আজও আমাদের মতন নিজেদের স্ স্ব ভূমিকায় লোকালয়ের দূরে আর অদূরে কাজ চালিয়ে যায়। এই স্তন্যপায়ী থেকে ক্রমে ক্রমে মানুষের উৎপত্তি হয়। পাখীরাও তেমনি দেখাল স্থষ্টির নানান কৌশল, কেরামতি আকাশে ওড়বার জন্ত বেশী ভাগ পাখীর দেহে সুন্দর কলকজার বন্দোবস্ত হল। এল পালকের বাহার, হাড়গোড়গুলে। হল হাক্কা, ব্যবস্থা হল দেহের ভিতর অক্সিজেন রাখার থলির আর আকাশে সাঁতার কাটবার জন্য মজবুত পেশীর এরা অসীম-গগন-বিহারী মুক্ত-পক্ষ বিহঙ্গ কিনা! পাখীর মধ্যে কেউ কেউ ওড় ছেড়ে দিয়ে মাটিতেই রয়ে গেল-_এই যেমন পেঙ্গুইন, অস্রিচ।

সথষ্টির সৃচনার পর বেশ কিছুদিন গেল জল থেকে স্থলে পালা বদল করতে মাছেরা জলে সাতার কাটত, পাখীরা কিন্ত বাতাসে সতার কাটে ; সরীশ্থপের ভিতর দিয়ে অনেকগুলো রূপাস্তরের স্তর পেরিয়ে তবে মাছ থেকে পাখীর অভিব্যক্তি হয়েছে সময় লেগেছে প্রায় ৪৭ কোটি বছর এই কোটি কোটি বছরের অস্তধ্ণনে

১৮

$

উর ৯৪৮৫৯৪৪৩ ৪৪০৪৫৩৫৪৪৬০ ১৩ উদ্তাস্ততও ৩.৩ 4টি -৬-৪-৬প৩-৪ গল$-৬ উড গু (2৮ $6৫৮৫১৩৪ ৭58৯৮ ৮১৪০২৫১০৩১৪৪৪০৪৯৬২৪ +২৯৪০৮৪০ র্‌ নিধন ০১৬০০১৪১৪৪৪ টা ঠি১০০০৫৬ ৯৪৫০৬০৮*৩৭৪৮৪৯৪৪৬ 81৫৪৮২)৭৭০৪৪%% 6৪ ৪:895০5৯৩1৪8৯6৭08ব5561 উ৪৪4৫285

তু $

সমস্ত কিছুর যেমন পরের পর রূপান্তর ঘটে, তেমনি জীবনের গজ-পর্বে গত কোটি বছরে হাতীর এমনি পরিণাম

২১০৩৮ রি

পাখীদের মত স্তন্তপায়ীদেরও রূপাস্তরের নানান দরজা খুলে যায়। গত $ কোটি বছরের মধ্যে দেখা যাঁয় হাঁতীর এক অদ্ভুত বিবর্তন হয়েছে। সুরুতে হাতীর পূর্ব-পুরুষ ছিল খুব ছোট, একটা বুনে! শুয়োরের মত; তেমন বড় শু'ড় ছিল না, গজদস্তও না। এদের পিঠে তখন হাওদ। দিয়ে মাহুতের সঙ্গে রাজা মহারাজাদের বন-ভ্রমণে যাবার উপায় ছিল না। আর তখন কোন রাজাই বা যাবে? কেউই জন্মায়নি! পরে আস্তে আস্তে হাতীর চেহারা! খুব বাড়ল-_সত্যি সে পরিবর্তন রাজকীয়। ঘোড়ার পরিবর্তনও ভাল ভাবে অনুসরণ করা যায়, খুব ছোট থেকে সুরু করে ওয়েলার হর্স পর্যস্ত আস্তে আস্তে বিবন্তিত হয়েছে .দিকে দিকে জীবনের পরিস্ফুটনই ক্রমবিকাশ

যার গেয়ে গেল জীবনের জয়গান

পৃথিবীর এই নাট্যশালায় প্রাণের প্রতীক হিসাবে যত অভিনেতা অভিনেত্রী কোটি কোটি বছর ধরে দেখ! দিয়েছে, তাদের বেশী ভাগের কথা এখানে বলা সম্ভব নয়, দচার জনের মাত্র পরিচয় দেওয়া গেল। কিন্তু এরা সবাই গেয়ে গেছে জীবনের জয়গান। জীবন স্থষ্টি হবার পর থেকে যত রকম প্রাণীর উদ্ভব হয় তাদের সবার সব পরিচয়ও নিখুঁত ভাবে জানা নেই। কেউ কেউ অবশ্য রেখে গেছে তাদের শিলীভূত দেহাবশেষ সেই সৃত্র ধরেই পুরোনো পরিচয়ের হিসেব নিকেশ করা হয়। সবচেয়ে পুরোনো যে প্রাণীর ফসিল পাওয়া যাঁয় তা ৫০ কোটি বছর আগেকার জীব তার আগেও যে জীবন ছিল সে কথা অনুমান করতে হয় সমুদ্রের নীচে পাওয়া কার্বনের ছোট ছোট চিহ্নগুলি দেখে। এসব কার্বন প্রাণ-পদার্থ- জাত। কোটি বছরের ব্যবধানের মাঝে জীবনের যে পরিণতি-_ তার নানান ধাপ; এমনি আশ্চর্য রকমের নান প্রাণীর সব দেহচিহ

বা জীবাশ্ম উদ্ধার করার পর, এখন ..ক্রমপরিণতির নাটকীয় দিকটা খুব ভাল ভাবে ধরা পড়ে। একটা দৃষ্টান্ত দিলেই জিনিসটা: পরিষ্কার হবে। সরীস্থপ থেকে যে পাখী তৈরী হয়েছে তার একট বড় প্রমাণ বিজ্ঞানীদের হাতে আছে আনুমানিক প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে একরকম বিদঘুটে জীব পৃথিবীতে ছিল যারা! আধা-সরীস্থপ আধা-পাখী। এদের বলি আরকিয়পটেরিক্স। ক্রেম- বিকাশের একট! বড় পৰ এই পথ দিয়েই পার হয়েছে এমন বিচিত্র জীব শিলীভূত অবস্থায় পাওয়া গেছে। অতএব সরীশ্থপ থেকে পাখী হওয়ার রূপান্তরের কথা একরকম সন্দেহাতীত। শুধু জীবাশ্ কেন, পৃথিবীতে জ্যান্ত এমন কতকগুলো! জীব টিমটিম করে আজও বেঁচে আছে যাঁরা জীবন-নাটকের অদ্ভুত সব সাক্ষী . এক কালে এদের প্রতাপ প্রতিপত্তি ছিল বহুবিস্তৃুত। এরা কব্রমবিকাশের অসাধারণ ভূমিকাও একদিন নিয়েছিল। কিন্তু এখন সাতকাল গিয়ে এদের এক কালে ঠেকেছে। প্রায় ৫* কোটি বছর আগে চিংড়ীদের একদল জাত-ভাই খুব মাতববর ছিল--এদের একট! সরিক আজও বেঁচে আছে, নাম লিমুলাস। এদের আজও বেঁচে থাকাটা আশ্চর্য_না থাকাটা নয়। নীচু পর্যায়ের কেঁচো আর. উঁচু পর্যায়ের চিংড়ীর মাঝ-বরাঁবর একরকম জীবের দেহে, এই ছুই জাতেরই বৈচিত্র্য বর্তমান এদের নাম পেরিপেটাস। ছাড়া স্তম্তপায়ীদের মধ্যে একদল মনোটিম নামধারী জীব এখনও বহাল তবিয়ৎ-এ বর্তমান, যারা সরীশ্থপদের মত ডিম পাড়ে, কিন্তু বাচ্চা দেয় না। এই সব ডিম-পাড়। স্তন্যপায়ীর। অন্যান্য স্তন্যপায়ীদের পক্ষে যতটা কলঙ্ক হোক না কেন, ক্রমবিকাশের নাটকে এদের ভূমিকার গৌরব চিরকাল অক্ষুপ্ন থাকবে নতুন দিনের নতুন উদ্যম হয়তো এদের নেই, এখন এর ম্রিয়মাণ। আজ ক্ষীণকণ্ঠে হলেও একদিন জীবনের জয়গান সপ্তমেই এর! গেয়ে গেছে।

নাটকের . শষ নেই

রা ২৫০ ছক্ষ অহ এ০স অ।বপ-।শ্লল-সাঁধনায় সঞ্জীবিত যে নটি তা আজও পৃথিবীর স্টেজে তেমনি অল্লান, মুখরিত, গতিচঞ্চল। : এতটুকু তার ক্ষয়-ক্ষতি, নেই, বরং' প্রতিদিন তার অকল্পিত সব ' সম্ভাবনার শ্ুত্রপাত হয়। কত লক্ষ লক্ষ প্রাণী, কত কোটি কোটি বছর ধরে জীবনে-মরণে এই নাটকে নিয়োজিত। এতটুকু অদৃশ্য প্রাণ কণা থেকে কি রিরাট কি বিচিত্র প্রাণ-সমারোহ পৃথিবীতে গড়ে উঠেছে, তার তুলনা নেই। যেমন প্রাণের অসাধারণ বিকাশ হয়েছে__তেমনি বিচার করলে দেখা যাবে যে মঞ্চের অর্থাৎ এই পৃথিবীটারও সিন সিনারীর বার বার কত পরিবর্তন হয়েছে। সৃষ্টির 'স্ুরূতে পৃথিবী ছিল শুধু আগুনে-গ্যাসের উৎখাত কেন্দ্র, ক্রমে তার চারিদিকে সাগর এসে ঘিরে ধরল, বড় বড় মহাদেশের মধ্যে অতীতের সংযোগ হল বিচ্ছিন্ন। পৃথিবীর বুক চিরে পাহাড় মাথা তুলে দ্লাড়াল। নানান নদনদীর সাগরে যাওয়ার পথ হল বিব্তিত, বড় বড় তুষার প্রবাহ .এল পৃথিবীতে নেমে নানা ঝড়-বাপটা, ' নানা রূপাস্তরের ওঠা-নামা পৃথিবীর ওপর দিয়ে ঘটে গেল। তবু 'জীবন-নাটকের মিষ্টি স্থরখানি এত অঘটন-ঘটনের মাঝে কখনও খাদে কখনও নিখাদে বেজে চলল, একেবারে থেমে গেল না। কান পাতলে আজও তা শোনা যায়।

নাটকের শেষ নেই। নাটকের নিত্য পরিবর্তন। এরই মধ্যে বারে বারে নতুন জীবনের আসন পাতা আর আসন তোলা। প্রকৃতি ঘেন রঙ্গমঞ্চে সব সময়ে খবরদারি করছেন। 'নাটক অনুযায়ী কত বিচিত্র সব কুশীলব নির্বাচিত হয়েছে। ডারউইন এর নাম দিলেন -প্রাকৃতিক-নির্বাচন। একটা অমোঘ শক্তির নিয়ম পারদর্শাকে

৯৬

রা ০০261 টির শ/৮8471

এয়া টাটা দা র্‌ 601101) 1) 01] | 0] /111111

পেরিপেটাস ক্রমবিকাশের এক জীবন্ত সাক্ষী__দেহের, আক্কৃতিতে .কিছু কেঁচোর আর কিছু চিংড়ীর বৈশিষ্ট্য থাকায় এক রকম জীব থেকে যে অন্যরকম জীবের বিবর্তন হয়েছে তার একটি প্রমাণ

সিলাকানথ কোটি বছর আগে জীবনের স্টেজ ছেড়ে চলে গেছে সে ধারণা ভ্রান্ত প্রতিপন্ন হল ১৯৩৮ সালে, যখন এমন জলজ্যান্ত মাছ দক্ষিণ আফ্রিকায় হঠাৎ পাওয়া গেল

একিডনার তামাসা অন্যরকম-_-কৌলীন্তে গধিত বলে নিজেরা স্তন্যপায়ী হয়েও বাচ্চা দেয় না, পূর্বপুরুষ সরীস্থপের মত ডিম পাড়ে

২৩

রাখে মঞ্চের ওপর আর অপারদর্শীকে বেছে আলাদা করে সরিয়ে দেয়) ত্র ফলে হয় যত নিষ্ঘল জীবনের অবসান। কোন অভিনেতা৷ কতদিন কেমন করে রঙ্গমঞ্চে কি ভূমিকায় বহাল থাকবে তা প্রাকৃতিক 'নিবাচনের অধীনে সব প্রাণীর মধ্যে অভিযোজনের দৃষ্টান্ত. অতি সাধারণ জিনিস। একটি দৃশ্যে কোন অভিনেতাকে ভাল মানালেই যে অন্য কোন দৃশ্যেও তার তেমন সার্থকতা থাকবে এমন কোন কথ! নেই পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে যারা এককালে চমক লাগিয়েছে তারা নতুন দৃশ্যে সহজেই বেমানান হয়ে যায়। গান বেস্থুরে বাজলে ছুটি দেবার প্রশ্ন ওঠে। আর নতুন শিল্পীর আসন্ন আগমনের জন্যে নতুন দৃশ্য সাজান হয়। বৈচিত্র্য এমনি যে জীবনের নাট্যশালা কখনও খালি পড়ে থাকে নাঁ_সমস্ত শুণ্যতা সমস্ত নিক্ষলতাকে অতিক্রম করে জীবনে বারবার নতুন পর্বের আয়োজন হয়। এমন কতবার হল আরও কতবার বাকি !

সমস্ত জীবন-নাটকের পেছনে একটা অমিতবিভ্ত প্রাণ-প্রবাহ রয়েছে; অনাদি কাল থেকে সেই প্রবাহই জীবনকে অবিরত এগিয়ে নিয়ে চলে। নতুন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে, নতুন ঘটনার জালবোনা হয়েছে, এত অভিনেতা, এত ছুস্তর সময়, এত বিস্তৃত স্টেজ, এত রসরঙ্গ,_এ যেন কখনও নিঃশেষ হবার নয়। শুধু জীবনের অফুরস্ত যাছুকরী! এত ঘটনা যখন ঘটে গেছে তখনও সবচেয়ে বড় অভিনয়-করনে-ওয়াল অর্থাৎ এক কথায় যাকে বলা যেতে পারে নট-স্ূর্ব_সেই মানুষ তখনও এসে পৌছয়নি। জীবনের রঙ্গমঞ্চ মানুষের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প চাতুর্ষে এক অভাবনীয় পরিণতি লাভ করল। তখন শুধু এই পৃথিবীটা নয় সারা সৌর জগৎটা নিয়েও একটা বিচিত্র রঙ্গ স্থুরু হল যার জুড়ি ইহজগতে আর কোথাও নেই। আর শুধু খেল! নয়__-সব কিছুকে নিয়ে খেলানও

সময়ের সঙ্গে জীবনরঙ্গমঞ্চে পট পরিবর্তন

গত ১* লক্ষ থেকে আধুনিক কাল

( প্লিদটোসিন)

কোটি থেকে ১৭ লঙ্গ

(টারসিয়ারি )

১২ কোটি থেকে কোটি'

(ক্রিটেসাস )

১৫ কোটি থেকে ১২কোটি (জুরাসিক ) ১৮ কোটি থেকে ১৫ কোটি

( ট্রায়ামিক )

২১ কোটি থেকে ১৮ কোটি (পারমিয়ান ) ৩* কোটি থেকে ২১ কোটি ( কারবোনিফেরাস ) ৩৫ কোটি থেকে ৩* কোটি (ডেভোনিয়ান )

৩৮ কোটি থেকে ৩৫ কোটি'

(দিলুরিয়ান)

৪৫ কোটি থেকে ৩৮ কোটি'

(ওডভিসিয়ান )

৫৫ কোটি থেকে ৪৫ কোটি'

( ক্যামব্রিয়ান )

৯* কোটি থেকে ৫৫ কোটি,

(প্রোটারোজোইক )

৩০* কোটি থেকে ৯* কোটি:

( আরকোজোইক )

€**০ কোটি বছর আগে (1)

হিমযুগ অতিক্রম করে মানুষের আবির্ভার়--.বুদ্ধির নতুন আঅভিযান--সভ্যতা, সমাজ, বিজ্ঞানের প্রকাশ

স্তহ্যপায়ীদের রাজত্ব-্-পোকামাকড়দের প্রভাব ক্ুর--পাখীর্দের আকাশে নতুন সাফল্য--প্রাকৃ মানুষ জাতীয় জীবের হুচন!

স্তম্যপায়ীদের আধিপত্য বিস্তার--বর্তমান পতঙ্গদের আবির্ভাব- বড় বড় সরীস্থপদের বিদায়-- পাথীদের পরিণতি--আল্পস্‌, হিমালর প্রতৃতি পাহাড়দের মাথা উত্তোলন

ধড় বড় সরীশ্ছপদের আনর--বর্তমান সময়ের প্রায় 'সুব রকম অমেরমদণ্ডী প্রাণীদের আত্মপ্রকাশ সরীহুপরা রাজার আসনে--পোকামাকড়দের বিস্তর সাফল্য--ভবিহ্যতে স্তন্যপায়ী জীব হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ

ট্রাইলোবাইট নিংশেষ--পতঙ্গদের অগাধ প্রতিপত্তি --অনেক পাহাড়পর্বতের উদ্ভব

প্রথম সরীহ্প আর প্রথম পতঙ্গ জাতীয় প্রাণীর বিকাশ

'শুধু জলে নয় এখন স্থলেও নতুন উপনিবেশ

স্থাপনা_-নানান রকম মাছদের বিকাশ--উভচর প্রাণীরও বিবর্তন- সমুদ্রের জল মরে যাওয়ায় ডাঙ। জেগে ওঠ|

'মেরুদণ্তী প্রাণীদের অভিযান--নানান রকম

মাছদের প্রতিপত্তি ট্রাইলোব।ইট ঘরিয়মাণ নানান অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের জয়জয়কার-_. ট্রাইলোবাইট, নিউটিলয়্ডে প্রভৃতির আসর-_.

সম্ভবতঃ প্রথম মেরুদণ্ডীজীবেরও হুচন!

' ধারাবাহিক ফসিলের যোগশুব্র--স্পঞ্জ,

ট্রাইলোবাইট শামুক জাতীয় জীবের চিহ্ন

ফপিল একাস্ত বিরল, এককোধী প্রাণীদের প্রনার, সম্ভবতঃ নানান অমেরুদণ্ডী প্রাণীদেরও আগমন

পৃথিবীর উদ্ভব, চাদ আর অন্যসয গ্রহউপগ্রহ তৈরী, ব্বলম্ত পৃথিবীর ত্রমে তাগহীন অবস্থা গ্রচুর বৃষ্টির ফলে মহাসমুপ্রের উৎপত্তি--তাঁরপর অকন্মাৎ একদিন জীবনের উম্মোচন |

' পৃথিবীর এই রঙমহল তখনও তৈরী হয়নি-_গুধু

পরমাণুর! নিঃসীম শূন্যে বিক্ষিপ্ত

৮৬

দুম

৮06

ক্রমবিকাশের নবীনতম আগন্তক মানুষ

আলোঝলমল এই পৃথিবী সত্য, সত্য এই নিঃদীম আকাশ, সত্য এই সূ চন্দ্র কোটি নক্ষত্র, সময়ের রথে অনন্ত কালের অবিরল যাত্রাও সতা। সৃষ্টির এই অজশ্রতার মাঝে সবার উপরে মানুষ সত্য। তার উপরে আর কিছু নয়। কিন্তু আজকের এত বড় কঠিন সত্যটা আগে সত্য ছিল না কালক্রমে তা সম্ভব হয়েছে জীবনের ক্রমবিকাশের ভিতর দিয়ে। বিশ্বের দরবারে মানুষ এখন অপ্রতিম। বিশ্বসংসার তার নামে নামময়। সব কিছুর উপর সে এখন সর্বেসর্বা_ সেই-ই ইচ্ছাময়। ভাগ্য-দোষের কিছু নয়, ভাগ্যগুণেই বলতে হয় এমন অসাধ্যসাধন সম্তব হয়েছে কোন অমরার নির্বাসিত দেবদূতের বংশধর আমরা নই; মাটির এই পৃথিবীতেই আমাদের জন্ম, এখানেই ব্যাঞ্চি, এখানেই পরিণতি এখানেই আমাদের মরণ-বাঁচন। পৃথিবীর মানুষ ক্রেমবিকাঁশের দাক্ষিণ্যে ধন্য, বিবর্তনের অদ্বিতীয় মুখপাত্র মান্ুঘের মান্ুষ-হওয়া তো একদিনের নয়__ এর .পিছনে একটা তিমির-নিবিড় কুহেলিকাচ্ছন্ন বু পুরোনো ইতিহাস আছে। |

খ্ভ

পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণীর সঙ্গে মাছুষ আত্মীয়তার সুত্রে বাধা, সে স্তন্তপায়ী। অন্থান্ত বাদরদের সঙ্গে সেও প্রাইমেট 'জাতীয় প্রাণী সে হোমিনিডি পরিবারভুক্ত-_যদিও এখন মানুষ ছাড়া জীবিত আর কোন প্রাণীই এই পরিবারে পড়ে নী তাঁর বিজ্ঞীন- সম্মত গালভরা নীম হল- হোমো! সাপিয়েনস সাপিষেনস-_যার মানে বুদ্ধিমান লোক মানুষ নিজে বিচক্ষণ, তা না হলে নিজের এমনধারা নামকরণ করে বসে!

এই বুদ্ধিমান জীবটির ক্রমপরিণতির ইতিহাস সমস্ত জীবনের ইতিবৃত্তের তুলনায় বলতে গেলে কিছুই নয়। জীবনের আরম্ত আনুমানিক ২০০ বা ২৫০ কোটি বছর আগে- তারপর চলতে স্মুরু করার পর জীবন একদণ্ডের জন্যও থামেনি। একবার আর্ত, তারপর, শুধু নিত্য নৃতন ভঙ্গিমায় জীবন ক্রমবিকাশের পথ ধরে অজভ্র ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে আর মানুষ! তার স্চন। মাত্র গত ১৭ লক্ষ বছর আগে কোথায় ২৫০ কোটি বছর আর কোথায় মাত্র ১০ লক্ষ বছর! অবশ্য গত ১০ লক্ষ বছরে মান্ুষ-তৈরীর ইতিহাস আগেকার জীবন-তৈরীর ২৫০ কোটি বছরের ইতিহাস থেকে স্বতন্ত্র নয়ু। মাত্র তার সবশেষ পরিণতির কথা মানুষ হালের কালে পৃথিবীতে এসে দেখ। দিয়েছে

মানুষের বিবর্তনের ধার! বিশ্লেষণ করলে জান যায় যে গত ১০ লক্ষ বছরে পৃথিবীর অবস্থাটা আজকের মতন ছিল ন। এই ১০ লক্ষ বছরে পৃথিবীর উপর দিয়ে চার চারটে ভীষণ হিম যুগ চলে গেছে। প্রথম হিমযুগটি পৃথিবীর উপর নেমে আসে আনুমানিক ১০ লক্ষ বছর আগে। আর সর্বশেষটি আসে প্রায় ৮* হাঁজার বছর আগে এর মধ্যে আরও ছুটে শীতের সময় চলে গেছে। ছুটি হিমযুগের ভিতর বেশ কিছুদিন চলে আস্তর- হিমযুগের উষ্ণ সময়। এই অন্তব্তাকালের মধ্যে হাজার হাজার

২৭

বছরের ব্যবধান। হিমধুগের ব্যাপকতা এত ছিল যে উত্তর মেরু থেকে বরফের. স্রোত নেমে আসত ইউরোপে, উত্তর- আমেরিকার মধ্যবর্তী অঞ্চলে। এখনকার ফ্রান্স ইল তখন বরফে চাঁপা "পড়ে থাকত। এইসব হিমযুগের আতিশয্যে প্রাণীকুলের অবস্থা সন্কটাপন্ন হয়ে ওঠে তা বুঝতে অস্ুবিধ। হয় ন1। এমনকি এই তুষারশীতল আবহাওয়ার ফলে বহু প্রাণী পৃথিবী থেকে চিরকালের মত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। কিন্তু আশ্চর্য, এই তুষারঝঞ্ধা উপেক্ষা করে তারই মাঝে স্থষ্টির নিখুঁত জীব মানুষটির বিবর্তনপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। মানুষের উদ্ভাবন পর্ব এরই মাঝে আপন গতিবেগে অদ্ভূত ভাবে এগিয়ে গেছে।

মানুষ গড়তে বাদর কত রূপান্তরের পর্ব

মানুষ কি করে এবং কোথা থেকে এলো প্রসঙ্গ তোলার আগে একটি কথ। বোধহয় পরিষ্কার করে নেওয়া ভাল। সেটি হল অনেক লোকের আজও ধারণ। যে বাঁদর থেকে মানুষ তৈরী হয়েছে অর্থাৎ মানুষের পূর্বপুরুষরা হল চিড়িয়াখানার যত কপিকুল। কথা কিন্ত আদৌ সত্যি নয়। মহামতি ডারউইন- এর নামের সঙ্গে যুক্ত করে এই যে অপপ্রচার কর! হয়ে থাকে ত৷ নিতান্তই ভ্রান্ত, অলীক বা স্বপ্রপ্রস্থত। আধুনিক বিজ্ঞানে এই কথাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করা হয়েছে যে মানুষের এবং বাঁদরের ( তাও সব বীদরের নয়, মাত্র কয়েকটির ) বনু অতীতে পূর্বপুরুষ ছিল এক। সেই অতীত দিনের বিস্বৃতপ্রায় এক যোগন্থত্র থেকে ক্রমে ক্রমে এবং ধাপে ধাঁপে মানুষ এবং বাঁদর ক্রমবিকাঁশের বিভিন্ন পথে চলে আসে। কথা এখন আর ন1 মেনে উপায় নেই যে প্রায় দশলক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে যেমন আধুনিক মানুষের কোন

নট

8 &॥

হু পু |

অস্তিত্ব ছিলনা তেমনি বড় 'বাদরেরও কোন চিহ্ন ছিল না। স্থির কলে তখন: এ, ছুরকম জীবই তৈরাঁ হবার- রী, 'শবজাবে এগিয়ে চলেছে। : মোটাসুটিভাবে জানা আছে, যে সব' বাঁদর জাতীয় জীব মানুষের কাছাকাছি. আসতে পারে তার! হল গিবন, ওরাং ওটাং শিম্পা্জী গরিলা হাড়পাঁজরে মানুষের সঙ্গে এদের মিল থাকলেও তফাতের কিন্তু অন্ত নেই। এদের বুকের ছাতি বড়, আন্গুলগুলো! লম্বা লম্বা, শরীরের তুলনায় হাত ছটো। বেজায় ঝোলা, পা শুধু গাছে ঝোলাবার' উপযোগী, মাটিতে সোজা হয়ে এদের চলা একরকম ছুঃসাধ্য ব্যাপার যখন এর! কোনমতে দ্রাড়াবার চেষ্টা করে তখন শরীরের ভার পায়ের চেটোর মাঝখানে পড়ে না_বরং দুপায়ের বাইরের ছুধারে চাপ এসে পড়ে এদের মধ্যে গিবন সবচেয়ে ছোট। গাছেই তার বসবাস। মাথার